অর্কিড চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন


প্রকাশিত: ০৫:০৩ এএম, ২৮ এপ্রিল ২০১৫

অর্কিড এক প্রকার ফুল। যার নান্দনিক সৌন্দর্য ও দীর্ঘ সময় সতেজ থাকার গুণ সৃষ্টিকর্তার মহিমা ছাড়া আর কিছুই না। যার কারণে ফুলের জগতে অর্কিড এর তুলনা শুধুমাত্র অর্কিডই। সারা বিশ্বে অর্কিডের প্রায় তিরিশ হাজার প্রজাতি রয়েছে। বর্তমানে দেশে অর্কিড ফুলের চারা উৎপাদনে ফুলের জগতে একটি আলাদা মাত্রা যোগ হয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে। কারণ অর্কিড এর বীজ থেকে চারা তৈরি অনেক কষ্টকর বলে জানা গছে।

অর্কিড গবেষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য ফুলের তুলনায় অর্কিড ফুল চাষে কম খরচ হয়। অল্প পরিশ্রমে বাণিজ্যিকভাবে অকির্ড ফুল সব জায়গায় চাষ করা সম্ভব। বাজারে এর চারা ও ফুলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ফলে বাণিজ্যিকভাবে অর্কিড ফুলের চারা ও ফুলের ব্যবসার অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সারা দেশে এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান টিস্যু কালচারের মাধ্যমে অর্কিড ফুলের চারা তৈরি করছে।

অর্কিড ফুলের গবেষক মতিউর রহমান মতি ও রোমানা আফরোজ ইতি জাগো নিউজকে জানান, নান্দনিকতার দিক দিয়ে অর্কিড অন্যান্য সব ফুলের উপরে রয়েছে। এই ফুলের চাষ সহজেই করা যায়। কিন্তু অর্কিডের বীজ হতে চারা তৈরি করা অনেক কষ্টকর। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত চারার কদর এখন বাড়ছে। ফুল চাষীরাও এই চারা কিনছেন। দেশে বিভিন্ন স্থানে টিস্যু কালচারের অর্কিডের চারা বিক্রি হচ্ছে ২শ টাকা থেকে ৪শ টাকা করে।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক জাগো নিউজকে জানান, আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়াসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে অর্কিডের চাষাবাদ হচ্ছে। গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল গ্রীন হাউজ। বাংলাদেশে কিছু এনজিও ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান অর্কিডের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কাজ করছেন। তবে ব্যাপকভাবে এর বিস্তার এখনও হয়নি। নান্দনিকতার দিক দিয়ে অর্কিড অন্যান্য সব ফুলের উপরে রয়েছে। যেকোন জায়গায় সহজে ফুলটি রাখাও যায়।


তিনি আরো জানান, একটি অর্কিড ফুল প্রায় তিন মাস পর্যন্ত সতেজ থাকে যা অন্য কোন ফুলে দেখা যায় না। এছাড়াও অর্কিড ফুল যেকোন জায়গায় এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ ঘরের মধ্যে, বারান্দায় ও টবে চাষ করা যায়।

এদিকে, সারা দেশে ডেনড্রোবিয়াম, ফেলনোপসিস, অনসিডিয়াম, ক্যাটোলিয়া, সাইপ্রেপিডিয়াম ও সিনোগাইলসহ বিভিন্ন জাতের নামিদামী অর্কিডের ফুল ফুটেছে। ভ্যান্ডার জাতের অর্কিড হচ্ছে বিভিন্ন গাছে। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত অর্কিডের চারা বিক্রি হচ্ছে ২শ টাকা থেকে ৪শ টাকা করে। আর বাজারে দৃষ্টিনন্দন এই সব অর্কিড ফুল টবসহ প্রকারভেদে ৫শ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয় বলে জানান অর্কিড গবেষক ও ফুল বিক্রেতারা।

ফলে অর্কিড চাষ করে কম খরচে সহজেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। অনেকে অর্কিড ফুল চাষে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। সারাদেশে এই ফুল চাষ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে এখন অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।