কাউন্সিলরের অত্যাচারে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা!


প্রকাশিত: ০২:৪৬ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৭

মুন্সিগঞ্জ সদর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেনের অত্যাচার সইতে না পেরে স্থানীয় ইউসুফ আলী বেপারি (৫৮) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।

রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭ টায় ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন ইউসুফ আলী বেপারি।

দীর্ঘদিন যাবৎ কাউন্সিলর জাকির প্রবীণ আলী বেপারীকে মানসিক, শারীরিক, ব্যবসায়ীকসহ বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে আসছিলেন।

জেলা প্রশাসক বরাবর দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায় যে, চলতি মাসের ১৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টায় ইউসুফ আলী বেপারিকে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে কাউন্সিলরের চেম্বার নামে পরিচিত "বারের সৃতি ক্লাবে" আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ৫টি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়াসহ বিভিন্নভাবে অপমান-অপদস্ত করে কাউন্সিলরের লোকজন।

এছাড়াও তার অনুচরদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ উঠিয়ে নিতে বলে এবং তা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলে।

munshigonj

সরজমিন গিয়ে জানা যায়, কাউন্সিলরের ভাগ্নে ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা অভিযোগ উঠিয়ে নেয়ার জন্যই মরিয়া হয়ে ওঠেন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য জাকির হোসেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি খুলে দিলেও তা আবার বন্ধ করে দেন তিনি।

এমনকি মৃত্যুর পর কাউন্সিলর জাকির হোসেন ঘরে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকা অবস্থায় মৃত আলী বেপারির হাতে থাকা `চিরকুটটি` নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রবীণ আলী বেপারির ছেলে নুরু ইসলাম জানান, গত ১৬ তারিখের ঘটনার বর্ণনা করে ১৭ এপ্রিল আমার মা (আসমা বেগম) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। সাময়িক সমাধান হলেও পরবর্তীতে আবার দোকান বন্ধ করে দেন জাকির হোসেন। এই দোকান দিয়েই আমাদের সংসারটা চলতো। বাবা এতো অত্যাচার সইতে পারেননি।

নিহতের ভাই ইসমাইল জানান, বেশকিছুদিন যাবৎ কাউন্সিলর আমার ভাইকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ও বন্ধ করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি সন্ধ্যায় আত্নহত্যা করেন। ঘটনার পরপরই কাউন্সিলর জাকির হোসেন আমাদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং ভাইয়ের হাতে থাকা সুইসাইড নোটটি নিয়ে যায়।

এতো অত্যাচার সইবার মতো না। আমরা জানতেও পারলাম না তাতে কী লিখা ছিলো। কাউন্সিলরের অত্যাচারের কারণেই আমার ভাই আত্মহত্যা করেছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, ১৭ এপ্রিল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগটির বিষয়ে আমি দ্রুত ব্যবস্থা নেই। দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, তা আমি খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করি এবং কাউন্সিলরকে দোকান বন্ধ করাসহ আইন নিজের হাতে না তুলে নিতে নিষেধ করি।

তবে কাউন্সিলর জাকির হোসেন জানান, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। ইউসুফ আলীর পরিবারের সদস্যরা আমাকে যেভাবে দোষারোপ করছে তা ঠিক নয়।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুচ আলী জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এফএ/জেআই্এম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।