রাজশাহীতে জমে উঠেছে সিল্ক বাজার, ৬০ কোটি টাকার ব্যবসার আশা

সাখাওয়াত হোসেন
সাখাওয়াত হোসেন সাখাওয়াত হোসেন , জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ১১:৩৩ এএম, ১২ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজশাহীর সিল্ক পল্লিতে বেড়েছে শৌখিন ক্রেতাদের আনাগোনা। রুচিশীল ক্রেতাদের উপস্থিতিতে জমে উঠতে শুরু করেছে সিল্ক শোরুমগুলো। অন্যান্য বিপণিবিতানের মতো তীব্র ভিড় বা ঠেলাঠেলি না থাকলেও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারাও নিয়েছেন বাড়তি প্রস্তুতি। রেশম শিল্প মালিকরা আশা করছেন এবারের ঈদে রাজশাহীর বাজারে অন্তত ৬০ কোটি টাকার সিল্ক পণ্য বিক্রি হতে পারে।

সরেজমিনে বিভন্নি সিল্ক শো-রুমগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সিল্ক পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। প্রতি উৎসব মৌসুমেই নারীদের বড় একটি অংশের আগ্রহ থাকে সিল্ক পণ্যের প্রতি। রোজা শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজশাহীর সিল্ক শোরুমগুলোতে ক্রেতা সমাগম বাড়তে থাকে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কেনাকাটার ব্যস্ততা।

ক্রেতারা জানান, রাজশাহীর সিল্কের মান ও ঐতিহ্যের কারণে তারা প্রতিবছরই এখান থেকে ঈদের কেনাকাটা করে থাকেন।

ক্রেতা শারমিন আক্তার বলেন, প্রতিবছরই ঈদের কেনাকাটার একটি বড় অংশ রাজশাহীর সিল্ক থেকে করি। এখানকার কাপড়ের মান খুবই ভালো এবং ডিজাইনেও আলাদা এক ধরনের ঐতিহ্য ও আভিজাত্য থাকে। বিশেষ করে সিল্কের শাড়িগুলো আমার খুব পছন্দ। ঈদ উপলক্ষে নিজের জন্য এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য কয়েকটি শাড়ি কিনেছি।

মো. রাকিব হাসান নামের এক ক্রেতা বলেন, রাজশাহীর সিল্ক শোরুমগুলোতে ভিড় তুলনামূলক কম থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায়। কাপড়ের মান ভালো হওয়ায় দাম একটু বেশি হলেও কিনতে আপত্তি নেই। ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের সবার জন্য পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস এবং বাচ্চাদের পোশাক কিনলাম।

ব্যাংককর্মী নুসরাত জাহান বলেন, রাজশাহীর সিল্কের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে, সেই আস্থা থেকেই এখানে কেনাকাটা করতে আসা। এখানকার কাপড় টেকসই এবং আরামদায়ক। ঈদে আত্মীয়-স্বজনদের উপহার দেওয়ার জন্যও সিল্ক পণ্য কিনেছি।

এদিকে ঈদের বাড়তি চাহিদা পূরণে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন ডিজাইন ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী সিল্ক ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী খুরশিদা খুশি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে আমরা অনেক আগে থেকেই উৎপাদন কার্যক্রম জোরদার করেছি। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ডিজাইনের পণ্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে এবার মোসলিনের কাজ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এবার আমাদের মোসলিন শাড়ির দাম ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত রেখেছি। বাচ্চাদের জন্য ৫০০ থেকে শুরু করে ১০ হাজার দামের পর্যন্ত রাখা হয়েছে। থ্রি-পিস ২ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার পর্যন্ত দামের রাখা হয়েছে।

রাজশাহীতে জমে উঠেছে সিল্ক বাজার, ৬০ কোটি টাকার ব্যবসার আশা

ঊষা সিল্কের মহাব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, সিল্কের সারাবছরই গতানুগতিক কাজ চলে। তবে এবার ঈদে গরমের কারণে আমরা মোসলিনের ওপর বেশি কাজ করেছি। শাড়ি, পাঞ্জাবি ও থ্রিপিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। আমরা দামও এমনভাবে ঠিক করেছি, যেন সব ধরনের ক্রেতারা কিনতে পারেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা শেষে নির্বাচন পরবর্তী স্থিতিশীল পরিবেশে এবার ঈদ হচ্ছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সপুরা সিল্কের পরিচালক সাজ্জাদ আলী সুমন বলেন, এবারের প্রস্তুতিটা ছিল অন্যরকম। যেহেতু নির্বাচিত সরকার, সাধারণ মানুষও বেশ সাড়া দিচ্ছে। শীতের শেষ ও গরমে শুরু বলে ভালো একটি আবহাওয়াও আছে। এই কারণে আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা সিল্কের সব ধরনের পোশাকই তৈরি করি। ঈদের প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই নিয়েছি। সিল্ক পণ্যের দাম গত ৫ বছরের চেয়ে অনেকটা বেড়ে গেছে। এর একটি কারণ হলো কাঁচামাল। শাড়ি ৩২০০ থেকে শুরু করে ৬০ হাজার টাকার পর্যন্ত তৈরি করেছি। থ্রি-পিস ৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার, পাঞ্জাবি ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত রেখেছি।

রাজশাহী রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে ততই বিক্রি বাড়বে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে রাজশাহীর বাজারে অন্তত ৬০ কোটি টাকার সিল্ক পণ্য বিক্রি হতে পারে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।