স্কুল ও রাস্তার গাছ কেটে বিক্রি করলেন ইউপি সদস্য
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলীতে অনুমতি ছাড়া একটি স্কুল ও রাস্তার প্রায় ২০টি সরকরি গাছ কেটে উজাড় করেছেন ইউপি সদস্য। অনুমতি না নিয়ে বক্তাবলীর ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার নিজের ক্ষমতার দাপটে এ কাজ করেছেন।
এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযাগে সরকার ঘোষিত একটি গাছ কেটে দুটি গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও স্থানীয় মেম্বার গাছ কেটে একটি গাছ লাগানোরও কোনো উদ্যোগ নেননি।
তবে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বক্তাবলী ইউপি চেয়ারম্যানের সম্মতি নিয়ে গাছ কেটেছেন বলে দাবি করছেন স্থানীয় মেম্বার আমজাদ হোসেন।
বক্তাবলীতে স্কুল ও রাস্তার গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করছে না। এছাড়া ইউপি মেম্বার আমজাদ হোসেনের বাবা সিদ্দিক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ার সুবাধে ভয়ে এলাকার লোকজন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
অভিযোগে জানা গেছে, ফতুল্লার বক্তাবলীর পূর্ব চরগরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮/১০টি এবং তার পাশের রাস্তায় আরো ১০টি গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন। তিনি সরকারের নিয়মকে তোয়াক্কা না করে একদিনে প্রায় ২০টি গাছ কেটে এলাকাটি উজাড় করে দেন।
সরকারি গাছ কাটতে হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার নিয়ম থাকলেও আমজাদ হোসেন কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে গাছ কেটে অন্যত্র বিক্রি করে টাকাগুলো নিজের পকেটে রেখে দেন। আর এ ঘটনা জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে গাছ বিক্রির টাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলীর কাছে জমা রাখেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে গাছ কাটার সঙ্গে পূর্ব চরগরকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আহম্মদ আলী বেপারীরও হাত ছিল। তারা দু’জনে মিলে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করেছেন।
বক্তাবলীর পূর্ব চরগরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আহম্মদ আলী বেপারী জানান, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে মিটিং করে গাছ কাটার অনুমতি দেয়া হয়েছে। গাছ বিক্রির টাকা সরকারি দফতরে কিংবা স্কুলের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। তবে স্কুলের গাছ কাটার অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেনি। আর গাছ বিক্রির টাকা কার কাছে রয়েছে সেটাও তিনি স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি।
বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, স্কুল এবং রাস্তার গাছ কাটা হয়েছে আমি জানতে পেরেছি এবং পরে মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাছ বিক্রির টাকা পরিষদে জমা রাখা হয়েছে। রাস্তার উন্নয়নের জন্য কিছু গাছ কাটা লাগতে পারে তার জন্য উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসারের অনুমতিক্রমে গাছ কাটা হবে। কিন্তু মেম্বার কোন জায়গার গাছ কেটেছে খবর নিয়ে জানতে হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাসনীম জেবিন বিনতে শেখ জানান, স্কুল এবং রাস্তার গাছ কাটা বেআইনি। সরকারের অনুমতি ছাড়া কেউ গাছ কাটতে পারে না। তবে কিছু পুরানো গাছ কাটার উপযোগী যে সকল গাছ রয়েছে তা কাটার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছিল।
আর সেই গাছ বিক্রি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে স্কুল এবং রাস্তার গাছগুলো কাটার কোনো অনুমতি আমি দেইনি। তারা কার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে গাছ কেটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শাহাদাত হোসেন/এফএ/পিআর