মরিচের কেজি ৫ টাকা, মইর্যা গেছি ভাই
কাঁচা মরিচের জন্য বিখ্যাত মানিকগঞ্জ। রাজধানী ঢাকার কাছের এই জেলায় এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে কৃষকদের হাসি কেড়ে নিতে বসেছে মরিচের দাম। পানির দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। দাম শুনেই কৃষকের চোখে জল চলে আসে।
মানিকগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এই মরিচ। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, গাছ থেকে মরিচ তোলা ও হাটে আনার পরিবহন খরচও মিলছে না কৃষকদের।
পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত। অথচ এই জেলার মরিচ দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানি হয় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে। কিন্তু সেটিও এবার ঠিক মতো হচ্ছে না।
মানিকগঞ্জে কাঁচামরিচের বৃহত্তর বাজার বসে শিবালয় উপজেলার বরংগাইলে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী এই হাটে ওঠা মরিচ চলে যায় দেশের প্রায় সব জেলায়।
গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া, বুতুনি, দুবুলিয়া, তাড়াইল, ঢাকিজোড়া, ইন্তাজগঞ্জ, মহাদেবপুরসহ আরও কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে প্রতিটি খেতজুড়ে শুধু কাঁচামরিচ আর কাঁচামরিচ।
এ নিয়ে কথা হয় শিমুলিয়া ইউনিয়নের ফেচুয়াধার গ্রামের মরিচ চাষি রমজান আলীর সঙ্গে। তিনি এবার ২০ বিঘা জমিতে মরিচ আবাদ করেছেন। যে দাম তার এবার মাথায় হাত।
তিনি বলেন, এক কেজি মরিচ তুলতেই দিতে হয় ৫ টাকা। এছাড়া বাজারে নিতে পরিবহন খরচ তো আছেই। বাজারে নিয়ে এই মরিচ আবার ৫ টাকা কেজিতেই বিক্রি করতে হয়। অর্থাৎ মরিচ তুলতে যে খরচ হয় সেটাই পাচ্ছেন না তিনি। আগামীতে মরিচ চাষ না করার কথাও ভাবছেন এই কৃষক।
একই এলাকার কৃষক শহিদ মিয়া বলেন, ‘ভাই মইর্যা গেছি। মরিচের কেজি যদি ৫ টাকা হয়, তাইলে ক্যামনে মরিচ আবাদ করুম। এক কেজি মরিচ বিক্রি কইরা এক কাপ চায়ের দাম হওয়া কষ্টকর! তাহলে সংসার চলবে কি কইর্যা।’
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আলীমুজ্জামান মিয়া বলেন, এবার জেলায় ৪ হাজার ৬৩৬ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় মরিচের দাম পাচ্ছে না কৃষকরা।
এএম/জেআইএম