নড়াইলে ঝুকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান


প্রকাশিত: ০৭:৪৬ এএম, ০৩ মে ২০১৫

নড়াইল সদরের ৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঝুকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকেরা। আবার স্কুল ধসে পড়ার ভয়ে অনেকেই স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।  

নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভূমিকম্পে ভবনে ফাটল ধরায় ৫৫০ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। টানা দুই দিনের ভূমিকম্পে বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনে আগে থেকে ধরা ফাটল ছাড়াও কয়েকটি পিলার ও দেয়ালে নতুন করে ফাটল ধরায় যে কোন সময়ে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষকসহ ছাত্রছাত্রীরা।  

১৮৫৭ সালে জমিদারি আমলে প্রতিষ্ঠিত নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক। এই বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি এমনিতেই জরাজীর্ণ। তার উপর ২ বারের ভূমিকম্পে ৯ম শ্রেণীর ক্লাসরুমসহ কয়েকটি রুমের ছাদের ভীতসহ ৩টি ভবনের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে । যে কোনো সময় স্কুল ভবনটি পড়ে যেতে পারে এই ভয়ে ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস চলাকালীন ভবনের দিকে চেয়ে ক্লাস করে। এতে করে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। এছাড়া পরিবারের সদস্যরা ভূমিকম্প আতঙ্কে তাদের স্কুলেও পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না ।

একইভাবে ভূমিকম্পে শহরের সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন তলা ভবনটিতে অনন্ত ১০টি স্থনে ফাটল ধরেছে। এছাড়া ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ায় আতঙ্কে রয়েছেন সবাই। এই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ২ হাজারের বেশি।

এছাড়া সদরের মাইজপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দোতলা ভবনে (মূল ভবন) ফাটল ধরায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বিদ্যালয়ের ৭ শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আতঙ্কে দিন কাটালেও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শন করে বলেছেন, স্কুল ঝুকিপূর্ণ হলেও মারাত্মক নয় ।

স্কুলগুলো দ্রুত সংস্কারের আবেদন জানানো হলেও কর্তৃপক্ষের কোন তড়িৎ পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় হতাশ হয়ে অভিভাবকেরা তাদের ছেলে মেয়েদের ঝুঁকির মধ্যে স্কুলে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবী স্কুলগুলো দ্রুত সংস্কার না করলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হাফিজুল নিলু/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।