বুড়িমারী স্থলবন্দরে রোগীর রুপি কেড়ে নিল দুই কর্মকর্তা


প্রকাশিত: ১১:৫৫ এএম, ০৬ মে ২০১৭

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী মামুনুর রশীদ চৌধুরীর (৪৮) ২ লাখ ২৭ হাজার ৯২০ রুপি কেড়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

শনিবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশি মামুনুর রশীদ চৌধুরী বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ফিরে বাংলাদেশে এসে এ অভিযোগ করেন। তিনি ঢাকার কাফরুল থানার ৭৩০/২ ইব্রাহিমপুর এলাকার নাসির উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। মামুনুর রশীদ চৌধুরি ডায়াবেটিক ও থাইরয়েড রোগের চিকিৎসা নিতে ভারতে যাওয়ার জন্য বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন আসেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি ভারতে যাওয়ার জন্য বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছানোর পর তার এসব ভারতীয় রুপি খোয়া যায়। মামুনের পাসপোর্ট নম্বর বিএন ০১৬৯৪৬১।

বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, মামুনুর রশীদ চৌধুরি ডায়াবেটিক ও থাইরয়েড রোগের চিকিৎসা নিতে ভারতে যাওয়ার জন্য বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন আসেন। বুড়িমারী বন্দরে বাংলাদেশি টাকাগুলো ভারতীয় রুপিতে ভাঙিয়ে নেন তিনি। ইমিগ্রেশনের সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতে যাওয়ার সময় শুল্ক গোয়েন্দা এবাদত আলী তাকে ডেকে নিয়ে যান কাস্টমস অফিসে।

সেখানে রাজস্ব কর্মকর্তা মজিবুর রহমানের কক্ষে দিনভর তাকে আটকে রাখা হয়। এসময় মামুনের কাছে থাকা ভারতীয় ২ লাখ ২৭ হাজার ৯২০ রুপী ও একটি স্মার্টফোন কেড়ে নেন রাজস্ব কর্মকর্তা মজিবুর রহমান ও শুল্ক গোয়েন্দা এবাদত আলী।

এক পর্যায়ে মানুনের কাছে মুচলেকা লিখে নিয়ে তাকে সন্ধ্যা ৬টায় ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা পার করে দিয়ে আসেন মজিবুর রহমান ও এবাদত আলী।

মামুন শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে জানান, বুড়িমারী কাস্টমসের শুল্ক গোয়েন্দা এবাদত আলী ও রাজস্ব কর্মকর্তা মজিবুর রহমান আমাকে আটককে রেখে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯২০ ভারতীয় রুপি ও একটি মুঠোফোন কেড়ে নেন। এসময় তারা আমাকে ১৪ বছর জেল-জরিমানা দেয়ার ভয়ভীতি দেখান।

এ ব্যাপারে বুড়িমারী কাস্টমসের শুল্ক গোয়েন্দা এবাদত আলী ভারতীয় রুপি ও স্মার্ট ফোন কেড়ে নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, মামুনুর রশীদ চৌধুরীকে সন্দেহ হওয়ায় কাস্টমসে ডেকে আনা হয়। পরে তাকে রাজস্ব কর্মকর্তা মজিবর রহমানসহ চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত এগিয়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমস সহকারী কমিশনার রিজভী আহমেদ জাগো নিউজ কে জানান, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

এদিকে বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ ইনচার্জ (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ধরনের একটি ঘটনার কথা শুনেছি। কিন্তু কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় কিছুই করা সম্ভব হয়নি।

রবিউল হাসান/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।