পাড়েরহাটে তৈরি হয় মাছ ধরার জালে ব্যবহৃত `ভাসনি`


প্রকাশিত: ১০:২৩ এএম, ০৫ মে ২০১৫

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম মৎস্য বন্দর পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরেহাটে এখন উৎপন্ন হয় মাছ ধরার জালে ব্যবহৃত ফ্লোট বা `ভাসনি`। বঙ্গোপসাগরসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে জেলেরা মাছ ধরার সময় উপকরণ হিসেবে জালে ব্যবহার করে থাকেন ফ্লোট। এ ফ্লোট জালের উপরিভাগকে ভাসিয়ে রাখে আর নিচের অংশে ভারি বস্তু বাধা থাকায় তা থাকে পানির নিচে। ফলে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অনায়সে জালে ধরা পড়ে।

তাই মাছ ধরার উপকরণ হিসেবে এ ফ্লোট জেলেদের কাছে অতি প্রয়োজনীয়। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ট্রলার ডুবে গেলে জেলে ও মাঝি মাল্লারা ভাসনি হিসেবে ফ্লোট আকড়ে ধরে প্রাণে রক্ষা পান। সম্প্রতি পাড়েরহাটে ফ্লোট তৈরির কয়েকটি কারখানা স্থাপিত হয়েছে। ফলে ট্রলার মালিক ও জেলেরা অতি সহজে এবং কম দামে ফ্লোট সংগ্রহ করতে পারছেন।

ট্রলার মালিক বিমল দাশ জাগো নিউজকে জানান, ইলিশ ধরার মৌসুমে সমুদ্রগামী ট্রলারে রসদের পাশাপাশি ফ্লোট নেয়া হয়। এ ফ্লোটিং জালের উপরিভাগকে ভাসিয়ে রাখে আর নিচের অংশে ভারি বস্তু বাধা থাকায় তা পানির নিচে থাকে। ফলে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অনায়সে জালে ধরা পড়ে।

তিনি আরো জানান, প্রতি ট্রলারে ছোট আকারের ৩শ` থেকে ৫শ`টি ফ্লোট প্রয়োজন হয়। তারা আগে খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অধিক দামে ফ্লোট ক্রয় করতেন। কিন্তু এখন অনায়াসে এবং কম দামে পাড়েরহাট বাজার থেকে ক্রয় করছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এখানে রয়েছে ফ্লোট তৈরির চারটি কারখানা। স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু ডাক্তার (৫৫) , মাহাবুব খলিফা, দাউদ হোসেন ও বাতেন হাওলাদার এসব কারখানার মালিক।

ফজলু ডাক্তার জাগো নিউজকে বলেন, এখানকার ট্রলার মালিক ও জেলেদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ৪ লাখ টাকা ব্যয় করে আমি এ কারখানা বসিয়েছি। ঢাকা থেকে কাঁচামাল ক্রয় করে এনে এবং দুইজন কারিগর রেখে ফ্লোট তৈরি করছি। আমার কারখানায় গড়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার ফ্লোট তৈরি হয়। এসব ফ্লোট পাইকারি হিসেবে স্থানীয় দোকানে বিক্রি করি। আবার কখনো সরসরি ট্রলার মালিকদের কাছে বিক্রি করে থাকি।

তিনি বলেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় অনেক সময় উৎপাদন কম হয়। তবে ইলিশ ধরার মৌসুমে ফ্লোটের চাহিদা থাকে অনেক।  

হাসান মামুন/এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।