স্থল সীমান্ত চুক্তি : নীলফামারীর ছিটমহলগুলোতে আনন্দ আর আনন্দ


প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ০৫ মে ২০১৫

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৪টি ছিটমহলে সীমান্ত চুক্তি অনুমোদনে মঙ্গলবার মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। ভারতের মন্ত্রিসভায় স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন হওয়ায় ছিটমহলবাসীরা দ্রুত বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়ন চায়।

খারিজা এলাকার বাসিন্দা যদুনাথ চন্দ্র রায় জানায়, ৬৭ বছরের বন্দি দশা থেকে আমরা মুক্তি পেতে যাচ্ছি। ছিটমহলবাসীদের উভয়দেশের মধ্যে নাগরীকত্বসহ কোনো কিছুই ছিল না। আমরা জমি বিক্রি করতে পারতাম না, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার জন্য স্কুলে ভর্তি করতে পারতাম না।

তালুক বড়খানকি খারিজার মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের সন্তানদের আর গোপন ঠিকানায় স্কুলে ভর্তি করতে হবে না। বড়খানকী খারিজা গীতালদহের মশিয়ার রহমান বলেন, উভয় দেশের সরকারের আন্তরিক মনোভাব ও ছিটমহলবাসীদের দুর্ভোগ উপলক্ষি করতে পেরে সীমান্ত চুক্তি ভারতের মন্ত্রীসভায় অনুমোদন করা হয়েছে।

কুচবিহার রাজ্যের কোচ রাজার জমিদারির কিছু অংশ রাজ্যের বাইরে পঞ্চগড়ের বোদা, দেবীগঞ্জ, নীলফামারীর ডিমলা, লালমনিরহাটে পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারিতে অবস্থিত ছিল।

ভারত ভাগের পর ওই আট থানা পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হয়। আর কুচবিহার একীভূত হয় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। ফলে ভারতের কিছু ভূখণ্ড আসে বাংলাদেশের কাছে। আর বাংলাদেশের কিছু ভূখণ্ড যায় ভারতে। এই ভূমিগুলোই হচ্ছে বর্তমানের ছিটমহল।

পশ্চিমবঙ্গের কোচ বিহার ও জলপাইগুড়ি জেলা। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হলেও কোচ বিহার ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কোচ বিহার ছিল রাজাশাসিত পৃথক রাজ্য। ১৯৪৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কোচ বিহারের রাজা জগদ্বীপেন্দ্র নারায়ণ কোচ বিহারকে ভারত রাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার এক চুক্তিতে আবদ্ধ হন। এরপর ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি কোচ বিহারকে পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ভারত স্বাধীন হলেও ছিটমহলের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিষয়টি ঝুলে থাকে।

২০১১ সালের ১৫ জুলাই ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একযোগে ১৬২টি ছিটমহলের হেডকাউন্টিং (আদমশুমারি) এর কাজ শুরু হয়ে ১৮ জুলাই শেষ হয়। বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার অভ্যন্তরে ৪টি ছিটমহলের হেডকাউন্টিং জরিপে ১১৯টি পরিবার পেয়েছেন গণনাকারীরা। এর চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী এসব পরিবারের জনসংখ্যা ৫০৬ জন। এখানে পুরুষ ২৫৮ ও মহিলা ২৪৮ জন। ২৮ নম্বর ছিটমহল বড়খানকিবাড়ি খারিজায় পরিবারের সংখ্যা ২১ ও জনসংখ্যায় পুরুষ ৪৩, মহিলা ৪৩ সহ ৮৬ জন।

২৯ নম্বর ছিটমহল তালুক বড়খানকি খারিজায় পরিবারের সংখ্যা ৪৫। জনসংখ্যার মধ্যে পুরুষ ৯২ জন, মহিলা ৯৪ জনসহ ১৮৬ জন। ৩০ নম্বর ছিটমহল বড়খানকী খারিজা গীতালদহে পরিবারের সংখ্যা ৮। জনসংখ্যায় পুরুষ ১৯ ও মহিলা ১৮সহ ৩৭ জন। ৩১ নম্বর ছিটমহল নগর জিকাবাড়িতে পরিবারের সংখ্যা ৪৫ জন। জনসংখ্যায় পুরুষ ১০৪ জন ও মহিলা ৯৩ জনসহ ১৯৭ জন।

ভারতের ছিটমহলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রয়েছে নীলফামারীতে ৪টি, পঞ্চগড়ে ১২টি, কুড়িগ্রামে ৩৬টি ও লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টিসহ মোট ১১১টি।

এছাড়া বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ভারতের কোচ বিহার জেলাধীন ১৭ হাজার ২৫৮ দশমিক ২৪ একর আয়তনের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে।

এগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় ১টি, সদরে ১টি ও ভুরুঙ্গামারীতে ১০টি মোট ১২টি ছিটমহল আছে। আয়তন ১ হাজার ৮৮০ দশমিক ৪৪ একর।

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামে ৫৫টি, হাতিবান্ধায় ২টি ও সদরে ২টি মোট ৫৯টি ছিটমহল আছে। আয়তন ৩ হাজার ২৭৮ দশমিক শূন্য ৪ একর।

নীলফামারী জেলার ডিমলায় ৪টি ছিটমহল আছে। আয়তন ১৬৮ দশমিক ৪৮ একর। লোক সংখ্যা ৫০৬ জন। এছাড়াও পঞ্চগড় জেলার সদরে ৭টি, বোদায় ২৬টি ও দেবীগঞ্জে ৩টি মোট ৩৬টি ছিটমহল রয়েছে। আয়তন ১১ হাজার ৯৩২ দশমিক ৭৮ একর। এই ছিটমহলগুলোর লোক সংখ্যা ৩৭ হাজার ৩৬৯ জন। অনুরূপভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচ বিহার জেলার মেকলিগঞ্জ, মাথাভাঙ্গা, শীতলকুচি, দিনহাটা ও তুফানগঞ্জ থানার ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল আছে। আয়তন ৭ হাজার ৪৩ দশমিক ৫২ একর। লোক সংখ্যা ১৪ হাজার ২২১ জন।
                                                                                                                                   জাহেদুল ইসলাম/এমএএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।