লালমনিরহাটের ৫৯টি ছিটমহলে আনন্দ-উল্লাস


প্রকাশিত: ০২:০১ পিএম, ০৫ মে ২০১৫

ভারতের লোকসভায় মঙ্গলবার বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমা চুক্তির অনুমোদন হওয়ায় লালমনিরহাটের ৫৯টি ছিটমহলে আনন্দ,উল্লাস করেছেন সেখানকার মানুষ।

ছিটমহলবাসী দীর্ঘ ১৯৪৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত  ৬৮ বছর পর বন্দি জীবন থেকে মুক্তি আলোর মুখ দেখছেন। ছিটমহলবাসী ফিরে পেল তাদের পরিচয়। এতদিন নাগরিকত্ব না থাকা কার্যত এক ধরনের ‘রাষ্ট্রহীন’ এসব মানুষ ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই অমানবিক জীবন যাপন করে আসছেন।

লালমনিরহাটের উত্তর গোতামারীর ছিটমহলের বাসিন্দা সিরাজুল হক জানান, অনেক দিন পর হামা পরিচয় পাইনো এখন হামার ছেলে-মেয়েকে পড়ালেখা করবার পাম, এখন হামা বাংলাদেশের মানুষ।

গত ৩১ মার্চ ভারতীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশি ছিট মহল পরিদর্শনের এসে দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছিটমহল পরিদর্শন শেষে বলেন, ছিটমহল বিনিময় চুক্তি দীর্ঘদিনের দাবি। এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ছিটমহল বিনিময়ের ক্ষেত্রে সুবিধা-অসুবিধাগুলো খতিয়ে দেখার জন্য এসেছি। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় সদস্যরা ভূমি হস্তান্তর ও সীমানা র্নিধারণ সংক্রান্ত বিলটির অনুমোদন দিয়েছেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে বাংলাদেশি ছিটমহল রয়েছে ৫১টি। এর মোট এলাকা প্রায় ৭ হাজার ১১০ একর। অন্যদিকে বাংলাদেশের মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। এ জমির পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ১৬০ একর।

লালমনিরহাট জেলা ছিটমহল বিনিময় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম বলেন, ভারতের মন্ত্রিসভায় ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বিলটির অনুমোদন হওয়ায় বাংলাদেশ-ভারতের ১৬১টি ছিটমহলবাসীর পক্ষে থেকে দু`দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

১১১টি ছিটমহলের বাংলাদেশ-ভারত বিনিময় ও সমন্বয় কমিটি সভাপতি মঈনুল হক জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ছিটমহলবাসী দীর্ঘ ৬৮ বছর বন্দি থাকার পর আজ আমরা আলোর মূখ দেখছি। তবে স্থলসীমা চুক্তিটি ভারতীয় রাজ্যসভায় অনুমতি পেলে আর কোনো বাধা থাকবে না।

রবিউল হাসান/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।