যুবলীগ নেতা রায়হানের ভয়ে লুকিয়ে থাকত গ্রামের অনেকে
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রায়হানের ক্ষমতার অপব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। তার অপকর্মের বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অভিযোগ করলেও কোনো লাভ হয়নি। বরং পূর্বে চেয়ে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে রায়হান ও তার লোকজনের। তাকে দেখলে লুকিয়ে পড়তো এলাকার অনেক নারী-পুরুষ।
তার বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর এলাকায় অসহায় মানুষের জমি দখল, বে-আইনিভাবে নদীর বালু বিক্রি, খোঁচাবাড়ি বাজারে চাঁদাবাজি, নারীদের নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি ভিটে-বাড়ি লেখে নেয়ার জন্য তিনসন্তানের এক জননীকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে আসে রায়হান ও তার লোকজন। সেখানে দলিলে স্বক্ষর না করায় ওই নারীকে নগ্ন করে নির্যাতন করেছে রায়হান ও কয়েজন ইউপি সদস্য।
এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান আলাল মাস্টারও জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন ওই নারী। আলাল মাস্টার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, একই ঘটনা তিনিও শুনেছেন। কিন্তু ঘটনার অনেক পরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের গেছেন।
এদিকে নারীকে নগ্ন করে নির্যাতনের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রায়হান ও এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর দুদিন আগে রায়হানসহ ৭/৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন নির্যাতিত ওই নারী।
রায়হান পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন এলাকাবাসী। এলাকার অনেকেই এখন কথা বলছেন তার বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে।
গৌরিপুর এলাকায় মিনাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, আমি খোঁচাবাড়ি বাজারে ব্যবসায়ি করি। কিন্তু যুবলীগ নেতা রায়হান প্রায় চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দিবেন না। তাই বাধ্য হয়ে অনেক সময় কিছু দিতে লাগে।
দৌলতপুর এলাকার হাসনাত আলী জানান, সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই ক্ষমতার অপব্যবহার করছে তারা। এলাকায় রাস্তা-ঘাট, কালভার্টের কাজ জোর করে নেয় রায়হান। শহরের বড় নেতাদের সঙ্গে তার নাকি খুবই ভালো যোগাযোগ। তার ভয়ে মানুষ কিছু বলতে পারে না কেউ।
খোঁচাবাড়ি এলাকায় নূরে আলম জানান, ঠাকুরগাঁও-দিনাজুপর মহাসড়কের পাশ দিয়ে একটি ছোট নদী বয়ে গেছে। আগে টেন্ডারের মাধ্যমে নদীর বালু ডাক হতো। সরকার ক্ষমতায় আসার পর টেন্ডার ছাড়াই ক্ষমতা দেখিয়ে দিনের পর দিন বালু বিক্রি করে চলছে রায়হান ও তার লোকজন। ফলে মহাসড়কে রাস্তায় ভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানায়, খোঁচাবাড়ি এলাকায় বলাকা উদ্যান নামে পার্ক আছে। সেখানে রায়হান ও তার লোকজন মেয়েদের নিয়ে এসে অসামাজিক কার্যকলাপ চালায়। কিছুদিন আগে মেয়েসহ রায়হান ধরাও পড়েছিল কিন্তু পুলিশ নাকি টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে।
জগন্নাথপুর এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে অনেকে অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এখানে কেউ প্রভাব বিস্তার কেউ করে না। কিন্তু যুবলীগের সভাপতি রায়হান এখানে সব। অসহায় মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ আপেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, যুবলীগ করে বলে ক্ষমতার অপব্যবহার করবে সেটি কোনো নেতার কাম্য নয়। রায়হানের বিষয়ে এর আগে অনেক অভিযোগ এসেছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম জানান, কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করলে সেটি মেনে নেয়া যায় না। যেহেতু যুবলীগ আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন তাই কোনো প্রকার অভিযোগ পেলে সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপন/এমএএস/পিআর