বরিশাল মেডিকেলে উত্তেজনা : রোগীদের দুর্ভোগ
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এসময় হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ এবং জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে দেয় ছাত্রলীগের একটি পক্ষ। এতে করে রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত হাসপাতাল, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। প্রায় ৩ ঘন্টা উত্তেজনা চলার পর কলেজ অধ্যক্ষ এবং পুলিশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচী সাময়িক তুলে নেয় ছাত্রলীগের এক পক্ষের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৪ এপ্রিল রাতে মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া রাফিকে সভাপতি এবং মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়লে পদ বঞ্চিত নেতাদের সমর্থকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মধ্যরাতে তারা রাফি ও তুহিনকে খুঁজতে থাকে এবং রাফির আবাসস্থল হাবিবুর রহমান ছাত্রাবাসের (২ নম্বর হোস্টেল) ২০৪ নম্বর কক্ষের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাংচুর করে। হামলার আশঙ্কায় রাফি ও তুহিন আগেই ছাত্রাবাস থেকে সরে পড়েন ।
এদিকে বিতাড়িত রাফি-তুহিন গ্রুপ দলবল নিয়ে মঙ্গলবার রাতে হোস্টেলে ঢুকতে চাইলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পদ বঞ্চিত ইমরান গ্রুপ সংঘটিত হলে তারা পালিয়ে যায়। এসময় হোস্টেলে অবস্থানকারী গ্রুপ বিক্ষোভ মিছিল করে। এক পর্যায়ে মিছিল নিয়ে তারা ক্যাম্পাস সংলগ্ন বান্দ রোড অবরোধ করে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ সেখান থেকে তাদের উঠিয়ে দেয়। পরে তারা শেরেবাংলা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের গেটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে এবং জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে দেয়। এছাড়া তারা কলেজ বন্ধ করে দেয়ারও হুশিয়ারি দেয়। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ থাকে।
পরে রাফি-তুহিন গ্রুপকে ঢুকতে দেয়া হবে না কোতয়ালী থানার ওসির এমন আশ্বাস এবং তাদের বিরুদ্ধে কলেজ অধ্যক্ষ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে জরুরি বিভাগের গেট থেকে তারা সরে যান। তাছাড়া রাফি এবং তুহিনকে বুধবারের মধ্যে কলেজ থেকে বহিস্কার না করা হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দেয়ার হুশিয়ারি দেন নবগঠিত কমিটির পদ বঞ্চিত জামিলুর রহমান ছাত্রবাস ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন।
কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. ভাস্কর সাহা জানান, ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে একপক্ষ হোস্টেল ছাড়া। তারা কিছু লোকজন নিয়ে ক্যাম্পাসে আসায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। হোস্টেলে অবস্থানকরী পক্ষ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে তারা জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ করায় রোগীদের সমস্যা হচ্ছিল। পুলিশের সহায়তায় তাদের বুঝিয়ে জরুরি বিভাগের গেট থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
কোতয়ালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, রাফি-তুহিন গ্রুপ কিছু লোকজন নিয়ে মঙ্গলবার রাতে হোস্টেলে ওঠার জন্য আসলে বাধা দেয় কমিটি বিরোধীকারীরা। তারা হোস্টেলে ঢুকতে না পেরে চলে যায়। পরে ছাত্রলীগের অপর পক্ষ মিছিল নিয়ে মেডিকেল কলেজের সামনের বান্দ রোড অবরোধ করে। পুলিশ সেখান থেকে সড়িয়ে দিলে তারা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে সেখানে অবস্থান নেয়। রোগীদের সমস্যা হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের সেখান থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়। তবে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সাইফ আমীন/এসএস/এমএস