‘আমার ছেলে সন্ত্রাসী না’


প্রকাশিত: ০৩:৫৫ এএম, ২৭ মে ২০১৭

‘ভিলেজ পলিটিক্সে পড়ে কয়েকটি মিথ্যা মামলায় আসামি হন কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানকের কালাগাজি পাড়ার এনামুল হক (৩৫)। সেসব মামলায় আত্মসমর্পণ করে কারান্তরিণ ছিলেন বেশ কিছুদিন। মাস তিনেক পূর্বে জামিনে বেরিয়ে এলাকা ত্যাগ করে অন্যত্র বসতি গাড়েন এনাম। কিন্তু এরপরও অপরাধ জগতের ডনরা তাকে বাঁচতে দেননি। একটি মামলার হাজিরা দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এলাকায় ফেরেন তিনি। এর পরপরই তাকে তুলে নিয়ে যায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। তাকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করে গভীর রাতে বন্দুকযুদ্ধের কথা প্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু আমার ছেলে এনাম সন্ত্রাসী দলের সদস্য ছিল না।’

শুক্রবার ভোরে মহেশখালীর হরিয়ারছড়া থেকে গুলিবিদ্ধ এনামের মরদেহ উদ্ধারের পর সন্ধ্যায় পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের দু’সন্ত্রাসী গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে এনাম নিহত হওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানানোর পর আসল তথ্য প্রকাশে পরিবারের পক্ষে কক্সবাজারের একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত এনামের মা মাবিয়া খাতুন। এসময় নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমসহ আরো কয়েকজন নিকটাত্মীয় উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে নিহতের মা দাবি করেন, হোয়ানকে আইয়ুব আলী ও জালালের নামে দুটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এনাম কোনো বাহিনীতে সম্পৃক্ত নয়। কোনো গ্রুপের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। কিন্তু শুধুমাত্র আয়ুব আলীর নিকটাত্মীয় হওয়ায় এনামকে তিন-চারটি মামলায় আসামি করে জালাল বাহিনীর লোকজন।

এসব মামলায় আত্মসমর্পণ করে কয়েক মাস জেল খেটে তিন মাস আগে জেল থেকে মুক্তি পায় এনাম। ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে জেল থেকে বের হওয়ার পর নিজ এলাকা কালাগাজিপাড়া থেকে বসতি সরিয়ে দূরবর্তী হরিয়ারছড়ায় ঘর করে পরিবার নিয়ে বাস শুরু করে। ক্ষুদ্র ব্যবসা করে পরিবারের আহার যোগান দিত সে। কিন্তু জালাল বাহিনীর কুনজর থেকে আড়াল হতে পারেনি এনাম।

নিহতের মা মাবিয়া খাতুন আরো বলেন, বৃহস্পতিবার একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে কক্সবাজার থেকে সন্ধ্যায় হরিয়ারছরা পৌঁছেছিল এনাম। সেখানে পরিকল্পিতভাবে জালাল বাহিনীর আবছার ও ইসমাইলের নেতৃত্বে ওৎ পেতে থাকা সদস্যরা এনামকে তুলে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে সন্ত্রাসীরা এনামকে গুলি করে হত্যার পর হরিয়ারছড়া বিদ্যাপীট এলাকায় মরদেহ ফেলে যায়। পুলিশ সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বিষয়টি এভাবেই বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দু’পক্ষের গোলাগুলি ঘটনায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে এনামের মরদেহ উদ্ধার করেন।

মাবিয়া খাতুনের দাবি সেখানে কোনো বন্দুকযুদ্ধ হয়নি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এনাম কখনো সন্ত্রাসী ছিলো না। তাকে সন্ত্রাসী বানিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সবকিছুর পরিকল্পনায় রয়েছে জালাল বাহিনীর রমিজ, আবু তালেব, আবু বক্কর, জালাল প্রকাশ কালাইয়া। তিনি তার ছেলেকে হত্যার বিচার চান। হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান মাবিয়া।

মাবিয়া খাতুন আরো বলেন, তিন বছর আগে আমার ভাতিজা আশেক উল্লাহকে অপরহণ করে গুম করে জালাল বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। সেই থেকে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পালিয়ে আবছার, আমিনসহ একদল সন্ত্রাসী কেরুনতলীতে লুকিয়ে আছে। অন্যদিকে জসিম, পারভেজ, ইসমাঈলসহ আরেকদল কালারমারছড়ায় আস্তানা গেড়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে ওই সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে দু’দিক থেকে আমাদের হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এরই অংশ হিসেবে এনামকে পরিকল্পিতভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।