যশোরে নববধূকে গণধর্ষণ


প্রকাশিত: ০৩:৫৩ পিএম, ১০ মে ২০১৫

যশোরে স্বামী ও ননদের স্বামী মিলে এক নববধূকে (১৯) গণধর্ষণ করেছে। যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্র্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গণধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূকে ঘটনার দু’দিন পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার গভীররাতে স্বামী ও ননদের স্বামীসহ তিনজন মিলে ওই নববধূকে জোরপূর্বক বাড়ির পাশে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর স্বামী আজাদ ওই নববধূকে মুমূর্ষু অবস্থায় নরেন্দ্রপুর গ্রামে তার বাবার বাড়িতে রেখে আসে। দু’দিন গোপনে মেয়েটির পরিবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার রাত ৯টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়েটি জানান, তিন মাস আগে মনিরামপুর উপজেলার দুর্বাডাঙ্গা গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে আজাদ হোসেনের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তার স্বামী নির্যাতন করে আসছিল। পনের দিন আগে স্বামী মারপিট করায় সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর বৃহস্পতিবার স্বামী আজাদ ও তার ভগ্নিপতি লিটন মেয়েটিকে বুঝিয়ে ননদের বাড়ি নরেন্দ্রপুরে নিয়ে যায়। রাতে খাবার পর স্বামী আজাদ ও লিটন যৌন উত্তেজক ওষুধ খায়। তাকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে রাত একটার দিকে তিন মিলে জোরপূর্বক বাড়ির পাশে মাঠে নিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটি বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও কেউ তার কথা শোনেনি। এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মেয়েটির মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, জামাই ও জামাইয়ের ভগ্নিপতি ভালোভাবে মেয়েকে ডেকে নিয়ে গেল। ননদের বাড়িতে গেছে বলে কোনো চিন্তা করিনি। শুক্রবার ভোরে জামাই সাইকেলে করে মেয়েকে অসুস্থ অবস্থায় আমার বাড়িতে রেখে যায়।

তিনি আরও বলেন, এখন (রোববার রাত) তো মেয়েটা বসতে পারছে। এই কদিন কোনো হুশ ছিল না। ওরা (স্বামী ও স্বামীর ভগ্নিপতি) পলাতক রয়েছে। আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। আমি ওদের বিচার চাই।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আলমগীর কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোগীর শারীরিক অবস্থা বেশ জটিল। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

যশোর কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আক্কাছ আলী বলেন, স্বামী ও স্বামীর ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েছি। তবে এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার এখনও মামলা করেনি। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

মিলন রহমান/এমএএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।