বেনাপোল চেকপোস্টে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ : আহত ১০


প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ১০ মে ২০১৫

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বন্দর শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় বেনাপোল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এতে পুলিশ-শ্রমিক সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

এসয় পুলিশ ৫০/৬০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় দুপুর ২টা থেকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল।

রোববার দুপুর ২টার দিকে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ভবনে এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে পুরো বন্দরনগরী ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বেনাপোল পৌর সভার কাউন্সিলর ও স্থলবন্দর হ্যাল্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রাশেদ শাহিদা নামে নড়াইলের তার এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যায়। এ সময় ওই পাসপোর্টযাত্রীকে অহেতুক প্রশ্ন করে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ শ্রমিক নেতা রাশেদকে আটকে রেখে মারধর করে।

বিষয়টি সাধারণ শ্রমিকরা জানতে পেরে সংঘবদ্ধ হয়ে জোরপূর্বক ইমিগ্রেশন ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এতে ইমিগ্রেশন পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘটনাটি ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল পোর্ট থানা ও শার্শা থানাকে অবহিত করলে ওই দুই থানার পুলিশ অ্যাকশনে নামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৫০/৬০ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। গুলির শব্দে চেকপোস্টের আশেপাশে দোকানপাট মুহুর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে পাঁচ জন আহত হয়। আহতরা হলেন, রাশেদ কাউন্সিলার, সাংবাদিক মিলন খান, শ্রমিক ইদ্রিস আলি, আরাফাত আলি, পুলিশ কনস্টেবল শাখাওয়াত, মেজবা, একলাসসহ আরো তিন পুলিশ।

এ ব্যাপরে ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুদ্দিন জানান, রাশেদ কাউন্সিলারের নেতৃত্বে বন্দর শ্রমিকরা চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। শ্রমিকদের হামলায় অন্তত ৬ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতির ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে কাউন্সিলর রাশেদসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।

আটক অন্যরা হলেন, শ্রমিক ইদ্রিস আলী, রাসেল, মনিরুজ্জামান, ঘটনার সূত্রপাত ওই মহিলা যাত্রী শাহিদা খাতুন ও তার স্বামী আসলাম হোসাইন।

ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম খান জানান, কাস্টমসের বিষয়টি নিয়ে পুলিশ এগিয়ে গেলে শ্রমিকরা পুলিশের উপর হামলা করেন। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছে।

এমএএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।