ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১০০ বিঘা জমি দখলের অভিযোগ


প্রকাশিত: ১১:৩২ এএম, ২৮ মে ২০১৭

যশোরে সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা মূল্যের ১০০ বিঘা জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। তিনি সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের মাহিদিয়া বিলের ওই জমি ভুয়া নামে রেকর্ড মালিক দেখিয়ে কবলা দলিল করেছেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের। এখন জমির প্রকৃত মালিক ও প্রান্তিক কৃষকদের হত্যা ও মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেয়া হচ্ছে।

রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহিদিয়া গ্রামের ১৬০ জন জমির মালিকের পক্ষে এই অভিযোগ করা হয়। পরে তারা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ অস্বীকার করে সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম বলেন, একশ বিঘা জমি দখলের অভিযোগ সঠিক নয়। আমি প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে ২৯ বিঘা জমি কিনেছি। সমস্ত কাগজপত্র আমার কাছে আছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাহিদিয়া গ্রামের ১৬০ জন জমির মালিকের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন শফিয়ার রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শাহারুল ইসলাম তার বাহিনী নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু অসাধু সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহায়তায় রিফিউজিদের (১৯৪৭ সালে ভারত থেকে আসা) নামে ভুয়া রেকর্ডের মালিক দেখিয়ে নিজ নামে কবলা দলিল করেছেন। ওই জমি দখলে তিনি পুলিশ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে প্রকৃত মালিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। অথচ ১৯৬২ সালের রেকর্ড ও দখল সূত্রে তারাই ওই জমির মালিক।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা ১৯২৭ সালের পূর্ব থেকে ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছিল। তৎকালীন এই জমির গাতিদার ছিল নবু সরদার। জমির গাতি পরিচালনা করতো মফেজ দফাদার। তাদের কাছ থেকে পাট্টা মূল্যে এবং কোন কোন জমিতে ওয়ারেশ সূত্রে মিরজাফর সরদার, শামছুর রহমান সরদার, মোকছেদ দফাদার, সুনাল্যে বিশ্বাস, হাগু মোল্লা, শরিয়তুল্লাহ মোল্লা, অটল বিহারী পাল, ইউসুফ সরদার। তারাই জমি চাষাবাদ করে আসছিল। পরবর্তীতে কাউছার আলী মোড়লসহ অনেকে চাষাবাদ করতো। ব্রিটিশ সরকার মানচিত্র চিহ্নিত করে উল্লিখিত মালিকদের নামে ১৯২৭ সালে রেকর্ড লিপিবদ্ধ করেন।

পরবর্তীতে ১৯৪৬-৪৭ সালে পাকিস্তান সরকার জেলা প্রশাসকের নামে ওই ১০০ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করেছিল। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর অনেক ইন্ডিয়ান রিফিউজিকে ভারত থেকে পুশব্যাক করা হয়। তাদেরকে রূপদিয়া, সাড়াপোল, বানিয়াবহু, তপসীডাঙ্গা, চাঁচড়া, রাজা বরদাকান্ড রোড এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়। বিল হরিনা ও মাহিদিয়া বিলের কিছু জমি রিফিউজিদের চাষাবাদের জন্য মৌখিক নির্দেশ জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে এক’শ বিঘা জমি তফশীল অনুযায়ী দখল শর্ত হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়। ওই সময় উপরে উল্লিখিতদের বংশধরদের নামে একশ বিঘা জমির প্লট অনুযায়ী দখল শর্ত হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এক’শ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ৪২ শতাংশ জমি সরকারের নামে রেকর্ড হয়। যা সরলা বালা কান্তি ও সূর্যকান্তির জমি হিসেবে পরিচিত। অথচ ওই জমি কখনো রিফুউজিদের নামে কখনো রেকর্ড ছিল না। তবে ১৯৯০ সালের রেকর্ড অনুযায়ী কিছু জমি ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় অধিগ্রহণ করে। বাকী জমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড থাকে। ১৯৬২ সালের রেকর্ড ও দখল অনুযায়ী আমরাই ওই জমির মালিক।

তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের দাবি, শাহারুল ইসলামের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আমাদের দখলীয় জমি ও ১৯৬২ সালের রেকর্ড অনুযায়ী ভুলক্রমে যে জমি সরকারের নামে রেকর্ড হয়েছে সেইগুলো দখলীয় চাষিদের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হোক।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শতাকি নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রেসক্লাবের সামনে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এরপর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এদিকে, দুপুর ১২টার দিকে প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম বলেন, আমি প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে ২৯ বিঘা জমি কিনেছি। আমি কারো জমি দখল কিরিনি। আমাকে হেয় করার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উসকানিতে আমার বিরুদ্ধে তারা এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে।

তিনি আরও বলেন, আমার কোনো ক্যাডার বাহিনী নেই। কেউ ভয়ভীতি প্রদর্শনও করেনি।

মিলন রহমান/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।