শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কে দুরবস্থা, দুর্ভোগ চরমে


প্রকাশিত: ০১:২১ পিএম, ১৯ জুন ২০১৭

কাদামাটি আর খানাখন্দের কারণে প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি বাণিজ্যিক সড়ক। এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের গর্তের কারণে অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ৩৭ কিলোমিটার অংশজুড়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এ সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। ওই সময় ৫টি ছোট সেতু, ১০টি কালভার্টসহ ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এর কাজও করা হয়। সেই সঙ্গে ১২ ফুট প্রস্থ সড়ককে বাড়িয়ে ১৮ ফুট করা হয়। কিন্তু সংস্কারের দেড় বছরের মাথায় ২০১৪ সালের শেষ দিকে সড়কের কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হতে শুরু করে।

বর্তমানে সড়কটির পুরো অংশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। আগে মাঝে মধ্যে ইট-বালু ফেলে খানাখন্দ ভরাটের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তাও বন্ধ। ফলে এখন সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে একাকার হয় পুরো সড়ক। যখন তখন আটকে যায় ট্রাক-বাসসহ অন্যান্য যানবাহন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপুরের উতরাইল বাজার থেকে পূর্বধলার চৌরাস্তার কাছাকাছি আতকাপাড়া লালমিয়ার দোকান পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার সড়কের কোনো অংশেই পিচ ঢালাই নেই। সড়কের বড় বড় গর্তে জমেছে পানি আর কাদা।

পূর্বধলার ভোটেরবাজার এলাকায় ট্রাক নিয়ে খাদে আটকা পড়েছেন চালক জাহাঙ্গীর মিয়া। তিনি জানান, জারিয়ার ঘাট থেকে বালু নিয়ে আসতে পথে তিনবার চাকা খাদে আটকে গেছে। প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে, এখনো ট্রাক আটকে আছে সড়কে।

একই সড়কের একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক জানান, র্দীঘদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে অটোরিকশা চালান। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরিশিরি থেকে ময়মনসিংহে গিয়ে দিনে একবার মাত্র আসা যায়। আগে এই সড়কে ২০ মিনিট পরপর বাস চলত। সড়কের অচলাবস্থার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

Netrokona

স্থানীয় ঝানঞ্জাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, সড়কটির এ অবস্থার কারণে অটোরিকশা বা রিকশা না চলায় বাড়ি থেকে তিন-চার কিলোমিটার কাদাপথ মাড়িয়ে হেঁটে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করতে হয় তাকে।

দুর্গাপুর বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর জানান, রাস্তাটি খারাপ থাকায় ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনা দিয়ে ঠাকুরাকোনা-কলমাকান্দা সড়ক হয়ে মালামাল নিয়ে দুর্গাপুরে আসা-যাওয়া করতেন অনেকে।

কিন্তু বর্তমানে সে সড়কটিও ভেঙে গেছে। ফলে দুর্গাপুর-কলমাকান্দা অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এমনকি, এ অঞ্চলের কোনো মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার জানান, সড়কটি নতুন পরিকল্পনা করে নির্মাণের জন্য ৩১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ ও টেন্ডার শেষ হয়েছে। ঈদের পর ঠিকারদার নিয়োগ হলে কাজ শুরু হবে।

কামাল হোসাইন/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।