প্রেমিকের বাড়িতে ৮ দিন ধরে প্রেমিকার অনশন

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ এএম, ২০ জুন ২০১৭

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ভদ্রঘাট ইউনিয়নের চৈদুয়ার গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সাদ্দামের বাড়িতে ৮ দিন যাবত অনশন করছেন প্রেমিকা আঁখি খাতুন (২১)। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন ওই বাড়িতে প্রেমিকাকে দেখতে এলাকাবাসী ভিড় করছে।

গত মঙ্গলবার (১৩) জুন থেকে তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের চৈদুয়ার গ্রামে ৬ বছর আগে আতাহার আলীর ছেলে কৃষক আল-আমিনের সঙ্গে শিয়ালকোল ইউনিয়নের বড় হামকুড়িয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে আঁখি খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের ১ বছর পর তাদের সংসারে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু মেয়ে সন্তান হওয়ায় স্বামী আল-আমিন স্ত্রী আঁখিকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতো।

এক পর্যায়ে আঁখি খাতুন শ্বশুড়বাড়ির পাশে রফিকুল ইসলাম ওরফে ইসমাইল সরকারের ছেলে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের ছাত্র সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে সুচতুর সাদ্দাম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আঁখি খাতুনের সঙ্গে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক করে।

বিষয়টি জানাজানি হলে সম্প্রতি আঁখি খাতুনকে স্বামী আল-আমিন তালাক দেয়। পরে আঁখি খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমিক সাদ্দাম হোসেনের পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তাদের পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এ অবস্থায় প্রেমিক সাদ্দাম হোসেন নানা টালবাহানার পাশাপাশি অন্যত্র বিয়ে করার চেষ্টা করে।

এ সংবাদ প্রেমিকা আঁখি খাতুন জানতে পেরে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে বিষপান করে। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। ৪ দিন চিকিৎসা শেষে আঁখি খাতুন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফেরে।

পরে গত মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় বিয়ের দাবি নিয়ে প্রেমিক সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে ওঠে আঁখি খাতুন। এ সময় প্রেমিক সাদ্দাম কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে ওই নারী বিয়ের দাবিতে ওই বাড়িতে অবস্থান করছে।

সাদ্দামের পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে আঁখি খাতুনকে বার বার বের করে দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। এ অবস্থায় বিয়ে না হলে আত্মহত্যা করবে বলে ছেলের পরিবারকে হুমকি দিয়েছে প্রেমিকা আঁখি খাতুন। এ ঘটনার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না সাদ্দামের পরিবার ও চোখে পড়েনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের।

প্রেমিকা আঁখি খাতুন বলেন, সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। সে বিয়ের কথা বলে আমার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়েছে। কিছুদিন ধরে বিয়ের কথা বললে সে কৌশলে আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। আমি স্বামী-সন্তান ছেড়ে সাদ্দামকে ভালবেসেছি। এখন সে আমার সর্বনাশ করে অন্যত্র বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজছে। সাদ্দামের বিয়ের খবর শুনে আমি তার বাড়িতে চলে এসেছি। সে বিয়ে না করা পর্যন্ত এ বাড়ি থেকে যাবো না। আর বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করা হলে আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হব।

এ বিষয়ে সাদ্দামের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে বাড়িতে নাই। আমি এই মেয়েকে ছেলের বউ হিসেবে গ্রহণ করব না। এতে আমার বিরুদ্ধে মেয়ের পরিবার যা পারে তাই করুক। আমার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। অতি দ্রুত ছেলেকে অন্যত্র বিয়ে করাব।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাওয়া বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাসুদেব সিনহা বলেন, ছেলের বাড়িতে প্রেমিকার অনশনের ঘটনাটি শুনেছি। এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :