কুড়িগ্রামে কাপড় ব্যবসায়ী অপহরণ : প্রশাসনে তোলপাড়
কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাগলারহাট বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল মোত্তালেব চাঁদ মিয়াকে (৪৫) অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। অপহরণকারীরা প্রতিনিয়ত অবস্থান পরিবর্তন করায় পুলিশ তাদের এখনো সনাক্ত করতে পারেনি। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে অপহৃত ব্যবসায়ীর ছোট ভাই প্রভাষক রুহুল ইসলাম বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। অপহৃত চাঁদ মিয়াকে উদ্ধারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘট ডেকেছে পাগলারহাট ব্যবসায়ী সমিতি।
পাগলারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইউসুফ আলী ও ব্যবসায়ী ওসমান আলী জানান, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে পাগলারহাট বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ‘শাপলা ক্লোথ স্টোর’র মালিক আব্দুল মোত্তালেব চাঁদ মিয়া বাড়ি ফিরছিলেন। সে বাইসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে উমর আলী হাফিজিয়া মাদরাসার সামনে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস পথরোধ করে গাড়িতে তুলে নেয়। আশপাশের লোকজন দেখলেও কিছু বুঝে ওঠার আগেই অপহরণকারীরা শটকে পড়ে। এ ঘটনার পরপরই বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়।
ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইউসুফ আলী আরো জানান, ব্যবসায়ী চাঁদ মিয়াকে উদ্ধারের দাবিতে বৃহস্পতিবার পাগলারহাট বাজারে সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের দিয়াডাঙ্গা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে আব্দুল মোত্তালেব চাঁদ মিয়া। বুধবার রাতে অপহৃত হলেও বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে চাঁদ মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল-০১৭৭০৩৬৯৬১৩ থেকে তার ছোট ভাই রুহুল ইসলামকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে হত্যার হুমকি দেয় তারা।
ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মইন মো. দিলওয়ার হাসান ইনাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, থানায় অপহরণ মামলা হয়েছে। অপহৃতকে উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন জানান, মোবাইল ট্রেকিং করে বর্তমানে তাদের অবস্থান নারায়ণগঞ্জে সনাক্ত করা হয়েছে। অপহরণকারীদের অবস্থান কুড়িগ্রাম জেলার বাইরে হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ কম। তবে র্যা ব ও পুলিশের বিশেষ টিম অপহৃতকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান তিনি।
নাজমুল হোসেন/এআরএ/আরআই