ঝালকাঠিতে ২ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত
ঝালকাঠি সদর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে অভিযুক্ত প্রমাণিত হওয়ায় ভাতাভুক্ত অন্যের সনদ জাল করা সুলতান আহম্মেদ দুয়ারিসহ দুইজনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
অপরজন হলেন সদর উপজেলার বাউকাঠি গ্রামের মৃত. জেলাল উদ্দিন বেপারীর ছেলে মৃত. আব্দুল রব বেপারী। এই দুইজনের সনদ ও ভাতা বাতিল করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক বরাবরে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাই কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ মকবুল হোসেনসহ ছয়জন এই প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।
এতে বলা হয়েছে, পিপলিতা গ্রামের মৃত. সৈজদ্দিনের ছেলে সুলতান হোসেনের বাবার নাম পরিবর্তন করে সৈজদ্দিনের স্থানে সৈয়দ আলী দুয়ারি করেছেন সুলতান আহম্মেদ দুয়ারি। কিন্তু মো. সুলতান আহম্মেদ দুয়ারি জালিয়াতির মাধ্যমে তার নাম সুলতান হোসেন এবং গ্রাম নেহালপুর হওয়া সত্তে¡ও গ্রামের নাম পিপলিতা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্ত সব সুবিধা ভোগ করে আসছেন।
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে এই জালিয়াতির ব্যাপারে অভিযোগ করা হলে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত শেষে মো. সুলতান আহম্মেদ দুয়ারিকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। একইসঙ্গে তার সনদ ও ভাতা বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হয়।
অন্যদিকে, বাউকাঠির মৃত. আব্দুল রব বেপারী মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সদর উপজেলার বেতরা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শিশু কুমারসহ ওই এলাকার নয়জন মুক্তিযোদ্ধা মৃত. আব্দুল রব বেপারী বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে অভিযোগ করেন।
যাচাই-বাচাই কমিটি সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মৃত. আব্দুল রব বেপারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শনাক্ত করেন।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রতিনিধি এ এম আলাউদ্দিন বলেন, এই দুইজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ভাতা ও সনদ বাতিলের জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
মো. আতিকুর রহমান/এসআর/এমএস