১ হাজার টাকার সুদ এক মণ ধান
চলতি উফশী বোরো জমিতে বাম্পার ফলন সত্বেও একমাত্র বাজার মনিটরিং-এর অভাবে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে প্রান্তিক চাষিরা দাদন ব্যবসায়ী মহাজনদের কাছ থেকে আনা দাদনের ধান ও সুদের টাকা পরিশোধ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।
প্রান্তিক চাষিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রত্যেক ইউনিয়নে বেশিরভাগ প্রান্তিক চাষিরাই স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে মৌসুমের শুরুতে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে ১ হাজার টাকার সঙ্গে ১ মণ ধান নিয়েছেন। পরবর্তীতে চাষিরা বোরো জমিতে অধিক ফলনের আশায় উচ্চমূল্যে বীজ ক্রয় করে চাষাবাদ করেছেন। সেচ কাজে জ্বালানী তেলসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকদের গত বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদনে বেশী টাকা গুণতে হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছর প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৬শ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকায়। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দাদন ব্যাবসায়ীদের টাকা ও ধান পরিশোধ করা নিয়ে চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, ধানের বাজার মূল্য কম হওয়ায় এ উপজেলাসহ আশপাশে সর্বত্র ধান কাটা শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। একদিকে ধানের বাজারমূল্য কম, অন্যদিকে শ্রমিক সঙ্কটের কারণে চাষিরা আরও হতাশায় ভুগছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ না পেলে প্রান্তিক চাষিদের গোয়ালের গরু কিংবা স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করেই সুদসহ মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধ করতে হবে। চলতি বছর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে সর্বমোট ৯ হাজার ৮১৮ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সরকার কৃষকদের জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করলেও ব্যাংকিং সেক্টরের নিয়ম-নীতিসহ নানা জটিলতায় কৃষকরা ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়েই দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়াসুদে তাদের টাকা সংগ্রহ করতে হয়েছে।
চাষিদের অভিযোগ, উৎপাদিত ফসলের বাজারমূল্য একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। ফলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর ওইসব মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে বাজার মনিটরিং না করার জন্যই চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
এমজেড/এমএস