এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ


প্রকাশিত: ১০:০৮ এএম, ২৪ মে ২০১৫
শরীয়তপুর জাজিরার মাঝিরঘাট এলাকায় চলছে টেস্ট পাইলিংয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বহু প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর কাজ। দিন রাত পরিশ্রম করছেন প্রায় তিন হাজার দেশি-বিদেশি শ্রমিক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রখর রোদ ও নদী পাড়ের তপ্ত বালুর তাপ উপেক্ষা করে কাজ করে চলেছেন শ্রমিকরা। বালুর উপর বড় ছাতা পেতে কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

এদিকে, সেতুর টেস্ট পাইলিংয়ের প্রথমটির (পরীক্ষামূলক পাইলিং) কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী মঙ্গলবার এই টেস্ট পাইলিংয়ের ভর পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে ২৬টি টেস্ট পাইলিং করা হবে। এর মধ্যে ১০ টি হচ্ছে স্টীল পাইলিং এবং ১৬ টি বোর্ড পাইলিং।

অন্যদিকে, প্রায় আড়াই হাজার টনের জামার্নি হ্যামার মংলা থেকে মাওয়া রওয়ানা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে পৌঁছার কথা রয়েছে। জানা গেছে, আগামী অক্টোবরেই সেতুর মূল পাইলিংয়ের কাজ শুরু হবে। আর খুঁটির উপর সেতুর স্প্যান বসানো শুরু হবে আগামী বছরের মে মাসে। ২০১৮ সালে সেতুটি চালু করতে পদ্মা পাড়ে চলছে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবে কাজ যত এগিয়ে যাচ্ছে পদ্মাপাড়ের মানুষের মধ্যে আনন্দের আমেজ ততো তীব্র হচ্ছে ।

পদ্মা সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্নেল মনিরুল ইসলাম জানিয়েছে, পদ্মা সেতুর মূল কাজের মধ্যে রয়েছে মূল সেতু, নদী শাসন, দুইটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ। এর বাইরে আছে জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন। এর মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ হয়েছে প্রায় ৪০ ভাগ, নদী শাসন ৫ ভাগ, মূল সেতুর কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। আর ভূমি অধিগ্রহণ ৯৫ ভাগ ও পুনর্বাসনের ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

সরেজমিনে পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কর্মযজ্ঞের দৃশ্য। মাওয়া ও জাজিরার মধ্যে হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু। দ্বিতলবিশিষ্ট এই সেতুর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন, নিচ দিয়ে যাবে ট্রেন। মাওয়া চৌরাস্তা বরাবর দিয়ে সেতুটি হবে। এজন্য সেখান থেকে ফেরীঘাট সরিয়ে আড়াই কিলোমিটার দূরে শিমুলিয়ার নেওয়া হয়েছে। আগে ফেরীঘাটের দুটি স্থানে ৫০০ ও ২৫০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি এবং ৫০ টনের কয়েকটি ট্রেন ভাসমান বার্জে বসিয়ে পরীক্ষামূলক পাইলিংয়ের কাজ চলছে।

মাওয়ার কুমারভোগে নদীর পাড়ে বিশাল নির্মাণ মাঠে মূল সেতুর মালামাল রাখা হয়েছে। এদিকে ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাজে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯৫ ভাগ। শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় যথাযথভাবে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনটি জেলায় মোট প্রস্তাবিত ১ হাজার ৪২২ দশমিক ৭৫ হেক্টর জমির মধ্যে বেশি ভাগই অধিগ্রহণ হয়েছে। বাকি ভূমি দখল বুঝে নেওয়ার কাজ চলছে।

ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের জন্য মোট ২ হাজার ৫৯২টি প্লটের মধ্যে ১ হাজার ২৭০ টি প্লট হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬০ টি প্লট ভূমি ক্ষতিগ্রস্তদের। বাকি কাজ খুব দ্রুত সময় হবে বলে জানান সেতু বিভাগ। সেতুর উভয় পাশে ৪ টি পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে।

প্রকল্প কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৩টি ড্রেজার ১টি বহুমুখী কাজের জাহাজ, ১টি টাকবোট, ৩টি অ্যাংকর বোট, ২৫ টি কনটেইনার ও প্রায় ৫০০ ড্রেজিং পাইপ প্রকল্প এলাকায় বসানো হয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণ এগিয়েছে ৩৩ শতাংশ।

এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।