বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের সড়ক দখল করে বালু বাণিজ্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০১:৫৭ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৭

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের যাতায়াত সড়কটি এখন চোরাই বালুর ডিপো বানিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট।

তারা সড়কের ওপর চোরাই বালু স্তূপ করে রেখে যায় ও জন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফলে ডুলাহাজারা কলেজ গেট থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক পর্যন্ত সড়কে যাতায়তের মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এবং সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পার্কে আগত দর্শনার্থীসহ কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বালুর স্তূপের কারণে যেকোনো মুহূর্তে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, স্থানীয় বালুরচর এলাকার মো. তজু মিয়ার ছেলে ইউনুছের নেতৃত্বে একটি বালু চোর সিন্ডিকেট চক্র ডুলাহাজারা ইউনিয়নের কাটাখালী লবণাক্ত খাল থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। ওই বালু ট্রাকে করে  প্রথমে সাফারি পার্কের সড়কে জমা দেয়।

পরে সেখান থেকে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। অনুমোদনহীন কাটাখালী খাল থেকে উত্তোলন করা বালু ট্রাকে করে পাচারের ফলে সাফারি পার্ক সড়ক ছাড়াও চলাচলে চরমভাবে নষ্ট হচ্ছে শান্তিরঘাট-ডাকবাংলা সড়ক। সেই সঙ্গে গ্রামীণ আভ্যন্তরীণ সড়কগুলো চলাচলালে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ডুলাহাজারা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কলেজ গেট ও কলেজের দক্ষিণ পাশের মহাসড়কে অবৈধ বালুর ডিপোর কারণে এলাকাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে পড়ছে। চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছে কলেজের পরিবেশ। কলেজ সীমানা ঘেঁষে লবণাক্ত বালু রাখায় ছায়াযুক্ত গাছগুলো মরে যাচ্ছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের বারবার নিষেধ করেও তারা কর্ণপাত না করায় চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।

বালু চোর চক্রের প্রধান ইউনুছ বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি। এখানে বাধা দেয়ার অধিকার কারও নেই।

এ ব্যাপারে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোর্শেদুল আলম বলেন, সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বালুর ব্যবসা পরিচালনা করার কোনো অনুমতি কাউকে দেয়া হয়নি। তবে ওখানে বালুর ব্যবসা পরিচালনার ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন আছে কিনা আমি জানি না।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, সড়কে বালু রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি। বিষয়টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।