ঝালকাঠিতে ধান চাল সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য অধিদফতর
ঝালকাঠিতে খাদ্য বিভাগের ধান চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থতায় পরিণত হচ্ছে। প্রান্তিক চাষিদের মধ্যে সাড়া জাগাতে না পারায় ২৪ দিনে লক্ষ্যমাত্রার এক ছটাকও ধান-চাল সংগ্রহ করাতে পারেনি জেলা খাদ্য বিভাগ।
এদিকে, মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া, মিল মালিক ও মহাজনদের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক চাষিরা স্থানীয় খাদ্য অধিদফতরে সরাসরি ধান-চাল বিক্রি করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজার মূল্য ভালো না থাকায় কৃষকের মুখে হাসি নেই।
ঝালকাঠি জেলা খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ১ মে থেকে শুরু হয়েছে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান। এ অভিযান ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। অভিযানে প্রতি কেজি ধান ২২ ও চাল ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অভিযানের আওতায় ঝালকাঠি জেলায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ১৭১ মেট্রিক টন ধান ও ১২৯ মেট্রিক টন চাল।
তবে খাদ্য বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও এক ছটাক চালও সংগ্রহ করা যায়নি। এমনকি সংগ্রহ অভিযান সফল করতে ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটিও গঠন পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া প্রান্তিক চাষিদের মাঝেও তাদের এ অভিযান কোনো সাড়া ফেলতে পারেনি। এসব কারণে চাষিদের কাছ থেকে কম দামে ধান-চাল কিনে খাদ্য অধিদফতরের কাছে বিক্রি করেন ফড়িয়া, মিল মালিক ও মহাজনদের সিন্ডিকেট চক্র। ফলে প্রতি বছরের মতো এবারো খাদ্য বিভাগের নির্ধারিত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলায় বোরো মৌসুমে ব্রি-৪৭, ২৮, ২৯, ৫০ এবং বিনা-৮ ও ১০ জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এ জাতের ধানের উৎপাদন হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৬ মেট্রিক টন। অনুকূল পরিবেশ ও ধানে রোগ বালাই না হওয়ায় বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষাবাদের শুরুতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ৮ হাজার ৬শ ৪৩ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষকের আগ্রহ থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৮ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে।
কৃষক আবুল কালাম বলেন, সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। তবে ধান কেনার মত লোক পাচ্ছি না। বাড়ির উঠানে ধান পড়ে আছে। ধানের দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও পোষাতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের জন্য ফরিয়াদের কাছ থেকে ক্রয় না করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের ব্যাপারে প্রধান মন্ত্রীর কাছে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন কৃষকরা। সোমবার সকালে কৃষকরা সম্মিলিতভাবে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় কৃষকরা জানায়, প্রতি মণ ধান ৪০০ টাকা কেজি করে বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বীজ বপন, পরিচর্যা, ধান কাটা এবং মাড়াইয়ে যে খরচ হয় তাতে এ দামে ধান বিক্রি করে কোনো মতেই পোষানো সম্ভব নয়। সরকারীভাবে ধান চাল সংগ্রহ অভিযানে যদি সরসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করা হয় তাহলে প্রতি মণ ধান ন্যায্য মূল্যে ৭শ টাকা বিক্রি করা যায়।
এদিকে খাদ্য বিভাগ সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে বড় বড় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাল কেনার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কৃষক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষক তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না অথচ কম মূল্যে ধান কিনে ব্যবসায়ীরা চাল বানিয়ে সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর সাধারণ কৃষক ধান বিক্রি করতে গেলে খাদ্য কর্মকর্তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে ধান ক্রয় করতে অনীহা প্রকাশ করে আসছে।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমি ঝালকাঠিতে যোগদান করেছি চলতি মাসের ৪ তারিখে। এরপর থেকে গত বুধবার পর্যন্ত ছুটিতে ছিলাম। এরপর এসে ধান সংগ্রহে খাদ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম জোরালো করা হয়েছে। জেলার স্ব-স্ব উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা ধান চাল সংগ্রহ করবেন।
এসএস/আরআইপি