খুলনা থেকে কাঁচা পাট রফতানি কমেছে ৭০ শতাংশ


প্রকাশিত: ১১:৫৭ এএম, ২৮ মে ২০১৫
ফাইল ছবি

খুলনার দৌলতপুরে পাট শিল্পের ঐতিহ্য ও গৌরব দীর্ঘ দিনের। হাজার হাজার শ্রমিক জড়িত এ শিল্পে। কিন্তু গত কয়েক বছরের ব্যবধানে কাঁচা পাট রফতানি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। স্বাধীনতাত্তোর গত ৪৪ বছরে এ খাতে এমন সংকট দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করে সরকারের প্রতি এ অবস্থার অবসানে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কাঁচা পাট রফতানি বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে সম্প্রতি পাটমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে দৌলতপুর-খুলনা জুট প্রেস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভার পর গত ২৫ মে পাটমন্ত্রী বরাবর প্রেরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০১১-১২ অর্থ-বছর পর্যন্ত যেখানে প্রতিবছর ২৩-২৪ লাখ বেল কাঁচা পাট বিদেশে রফতানি হতো গত এবং বর্তমান অর্থ-বছরে তা অবিশ্বাস্যভাবে কমে গেছে। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থ-বছরে রফতানি কমে মাত্র ৬.৯৮ লাখ বেলে এসে দাঁড়িয়েছে।

চলতি অর্থ-বছরের এ পর্যন্ত তা ৭ লাখ বেলের কিছু উপরে হলেও সার্বিকভাবে কাঁচাপাট রফতানি কমেছে ৭০ ভাগ। এর ফলে খুলনা-দৌলতপুরের ১৫টি সচল জুট প্রেস এখন অচল। বন্ধ এসব জুট প্রেসের প্রায় দশ হাজার শ্রমিক কর্মচারি বেকার অবস্থায় স্ত্রী, পুত্র-কন্যা তথা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্দিন কাটাচ্ছে। তাদের মানবেতর জীবনযাপন অবর্ণনীয়।

অপরদিকে, ৭০ ভাগ কাঁচা পাট রফতানি কমে যাওয়ায় জুট প্রেসগুলোর মালিরাও চরমভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পর এখন ব্যাংকের সুদসহ অন্যান নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচে তারা দিশেহারা। মালিকদের আয় রোজগার না থাকায় শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধ করতে পারছেন না।

সূত্র জানায়, ১৫টি জুট প্রেসের প্রতিটিতে কমপক্ষে ৫০-১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এ অবস্থা কেবল খুলনা-দৌলতপুরের ওপরই নয় কাঁচা পাট রফতানি  কমে যাওয়ায় তা সরাসরি উৎপাদক হাজার হাজার কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ছাড়াও আমাদের জাতীয় রফতানি আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি অতীব গুরত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিদেশে কাঁচা পাট রফতানি বৃদ্ধির আশু পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অন্তবর্তীকালীন সংকট মেটাতে প্রেস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থা গ্রহণ তথা পুনর্বাসন সুবিধা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

আলমগীর হান্নান/এআরএ/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।