পশুর হাটে অ্যানথ্রাক্স ছড়ানোর ঝুঁকি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে জমে উঠতে শুরু করেছে পশুর হাট। তবে এই সময় গবাদিপশুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী জুনোটিক রোগ অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত পশু হাটে প্রবেশ করলে সেখান থেকে দ্রুত মানুষ ও অন্যান্য পশুর মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি মহামারি আকারও ধারণ করতে পারে।
এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিমুল এহসান।
তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে রংপুর ও গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত মানুষের শরীরে চামড়ায় ক্ষত, চোখ ফোলা ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা গেছে। অ্যানথ্রাক্স অত্যন্ত ভয়াবহ একটি জুনোটিক রোগ, যা আক্রান্ত প্রাণীর রক্ত, মাংস কিংবা দেহের বিভিন্ন অংশের সংস্পর্শে এলে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। কোরবানির হাটে যদি কোনো আক্রান্ত পশু থাকে, তাহলে সেখান থেকে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত পশু অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশের আগেই মারা যায়। তবে লক্ষণ দেখা দিলে শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণীটি মারা যায়। মারা যাওয়ার পর নাক, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে আলকাতরার মতো কালো রক্ত বের হয়। এই রক্ত বাতাসের সংস্পর্শে এলে জীবাণুটি স্পোর তৈরি করে, যা দীর্ঘ সময় পরিবেশে টিকে থেকে সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম।’
আক্রান্ত পশু শনাক্তের বিষয়ে তিনি জানান, পশুর জিহ্বা, নাক বা গলায় কালচে কিংবা সাদা দাগ ও ফোসকা দেখা যেতে পারে। এছাড়া আচরণগত পরিবর্তন হিসেবে অস্বাভাবিক উত্তেজনা বা অতিরিক্ত শান্তভাবও লক্ষ্য করা যায়।
রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক আমিমুল বলেন, হাটে প্রাণীর প্রবেশপথে বিশেষজ্ঞ টিম দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
কোরবানির হাটে ক্রেতাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অসুস্থ মনে হওয়া প্রাণী স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শরীরে কোনো ক্ষত বা কাটা থাকলে তা ঢেকে হাটে যাওয়া উচিত। কারণ ক্ষতস্থান দিয়ে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পশুর সংস্পর্শে আসার পর সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে ভালোভাবে হাত-পা পরিষ্কার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির পর পশুর রক্ত ও বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা যাবে না। নিরাপদ স্থানে মাটিচাপা দিতে হবে এবং সন্দেহজনক কোনো পশু হাটে দেখা গেলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এফএ/এএসএম