মাদক আখড়ায় ফলের চারা রোপন
যশোরে মাদকবিরোধী ১০০ দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রামে ২৫ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ। চিহ্নিত মাদক আখড়া ধ্বংস করে সেখানে করা হয়েছে ফলের চারা রোপন। পুলিশের এই মাদকবিরোধী অভিযানে একাত্মতা প্রকাশ করেছে জেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। তবে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে সাধারণ জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যশোর জেলা পুলিশ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে। মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। এসব অভিযানে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ পুলিশকে সহায়তা করেছে।
পুলিশ সুপার বলেন, মাদককে কেন্দ্র করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত হতো। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে এ ধরনের অপরাধ অনেক কমে এসেছে। ১০০ দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রামে প্রায় ২৫ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে জানা গেছে, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে অনেক সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত গডফাদাররা ওইসব মানুষের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
তুহিন নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমরা কী অপরাধ করেছি? মাদক স্পট উচ্ছেদ করে আমরা আজ মিথ্যা মামলার আসামি। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছি।

যশোর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ক্র্যাশ প্রোগ্রামে চিহ্নিত ছয়টি মাদক আস্তানা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে রোপন করা হয়েছে ফলের চারা। যশোরের ইতিহাসে এটিই প্রথম। যশোরে ১শ দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শেষে আরও একশ দিনের ‘এসড্রাইভ’ ও ডোর টু ডোর’ প্রোগ্রাম চলছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পাঁচ মাদক ব্যবসায়ী ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ৯শ মাদক ব্যবসায়ী। ১৪ জন মোস্ট ওয়ান্ডেট মাদক ব্যবসায়ীর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে যশোর জেলা পুলিশ।
পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, আমরা সকলকে সঙ্গে নিয়ে যশোর জেলাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করার শপথ নিয়েছি। ইতোমধ্যে অনেকটা সফলতা পেয়েছি। সবাই মিলে পুলিশকে সাহায্য করলে দ্রুত যশোর জেলাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব।
জেইউ/এফএ/এমএস