আড়াই বছরে ঝিনাইদহ মহাসড়কে ঝরেছে ৬৭ প্রাণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৪:৪৬ এএম, ১১ আগস্ট ২০১৭

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কারের ফলে ঝিনাইদহের মহাসড়কগুলো বেশিদিন টিকছে না। ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরে গেছে সড়কের বিভিন্ন স্থান। ভাঙা রাস্তায় ব্যয় হওয়া সময় বাঁচাতে গিয়ে দ্রুত যানবাহন চালাচ্ছেন চালকরা। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। গত আড়াই বছরে প্রায় ৬৭টি প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের মহাসড়কগুলোতে।

ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, জেলার মহাসড়কে ২০১৫ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ১৫১টি, এতে আহত হয় ২২৮ জন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায় ১৭ জন। ২০১৬ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮টি, এতে আহত হয় ৩৪২ জন, ঘটনাস্থলেই মারা যায় ২৫ জন। সর্বশেষ ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত দুর্ঘটনার সংখ্যা ৪০টি, এতে আহত ৯০ জন, মারা গেছেন ১৫ জন।

jhenaidah

এ মহাসড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান রয়েছে অন্তত ২০টি। এসব স্থানে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সালের মাঝামঝি পর্যন্ত ছোট বড় দুর্ঘটনায় ৫৫টির বেশি প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে।

ঝিনাইদহ কলা হাটের পাশের বাসিন্দা আলী হোসেন কামাল জানান, এসব স্থানে প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে যানবাহন। ভাঙা রাস্তায় সময় ব্যয় হওয়ায় ভালো রাস্তায় দ্রুত গতিতে যানবাহন চালাচ্ছেন চালকরা। ফলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর হার প্রতি বছরই বেড়েই চলেছে। এতে করে যাত্রীরা যেমন শঙ্কার মধ্যে থাকছে তেমনি চালকরাও থাকছেন দুর্ঘটনা ঝুঁকিতে। তাই সর্বস্তরের মানুষের দাবি সড়ক মেরামতে অর্থ যেন সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়।

jhenaidah

সদর উপজেলার বিষয়খালী বাসিন্দা কেসমত মন্ডল জানান, ঝিনাইদহ জেলায় ৮৭ কিলোমিটার মহাসড়কের উপর দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, রাজশাহী, মুজিবনগরসহ বিভিন্ন রুটে বাস, ট্রাকসহ কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের চুটলিয়া, তেতুলতলা, বিষয়খালী, ডাকবাংলাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক সংস্কারের পরেও রাস্তা ভেঙে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের।

বাস ড্রাইভার লতিফ জানান, সময় বাঁচাতে গাড়ি দ্রুত চালাতে হয়। রাস্তা ভালো হলে নিরাপদে গাড়ি চালাতে পারতাম।দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে আমরা রাস্তায় যাতায়াত করি।

jhenaidah

জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, সড়কের অবস্থা খারাপ, দ্রুত গতিতে যানবাহন চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকসহ নানা কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। এমনকি উদ্ধারকাজে যেতেও অনেক সময় ব্যয় হয়। সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা ভালো হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেক কমে যেত।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. জাকির হোসেন জানান, ভাঙা সড়ক মেরামতে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃষ্টি মৌসুমের পর আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।