তবুও থেমে নেই ছুটে চলা
বার বার সামনে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য আর হতাশা। তবুও থেমে নেই পথচলা। যেন অধরা স্বপ্নকে ধরতে হবে, আর সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলা এমনই এক অধম্য মেধাবী সিলেটের সুব্রত।
সুব্রত দেবনাথ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় নগরের পিডিবি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। বড় বোন মঈন উদ্দিন মহিলা কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের একমাত্র উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি বলতে তার মা সুপ্রীতি দেবনাথ। তিনি মঈন উদ্দিন মহিলা কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।
ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে গিয়ে ধরাশায়ী হয়ে ফিরে আসা তার বাবা সতীন্দ্র দেবনাথ এখন প্রায় বেকার। পরিবারের ভরণ-পোষণসহ তিন ছেলে মেয়ের পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয় বহন করতে হয় মা সুপ্রীতি দেবনাথের। এমন অভাবের সংসারে ভালো ফলাফল করে পরিবারে মুখে হাসি ফুটিঁয়েছেন সুব্রত।
সিলেট নগরের শামিমাবাদ আবাসিক এলাকায় মঈন উদ্দিন মহিলা কলেজের সামনের মাঠের পাশে ছোট্ট একটা চিলেকোঠার ঘরে কথা হয় সুব্রত’র বাবা-মায়ের সাথে।
বাবা সতীন্দ্র দেবনাথ জাগো নিউজকে বলেন, শিশু বয়স থেকেই সুব্রত দেবনাথের পড়াশোনার প্রতি তুমুল আগ্রহ ছিল। পড়াশোনার ইচ্ছা তাকে এত দূর নিয়ে এসেছে। প্রাথমিক স্কুলে সে ট্যাল্টেপুল বৃত্তি লাভ করেছে। এরপর থেকে সব সময়ই মেধা তালিকায় শীর্ষে থেকে সে তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছে।
তিনি বলেন, ছেলের এ ফলাফলে আমরা আনন্দিত। তবে তার উচ্চ শিক্ষা নিয়ে আমরা চিন্তিত। অভাবের সংসারে তিন ছেলে মেয়ের ভরণ- পোষণের পর লেখাপড়ার খরচ জোগানো অনেক কঠিন।
জিপিএ-৫ পাওয়া অধম্য মেধাবী সুব্রত দেবনাথ জানায়, মা-বাবার আগ্রহ আর শিক্ষকদের সহযোগিতার কারণে সে এত দূর আসতে পেরেছে, ভালো ফলাফল করতে পেরেছে। তাই তাদের প্রতি তার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
তার স্বপ্ন একজন সফল ব্যাংকার হয়ে মা-বাবার মুখে হাসি ফুটানোর। তবে, তার স্বপ্নের পেছনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দারিদ্র্যতা। সে শঙ্কা শুধু তার নয়, বাবা-মার চোখে মুখেও।
মঈনউদ্দিন মহিলা কলেজের প্রভাষক এনামুল হক চৌধুরী বলেন, তার মা (সুপ্রীয়া দেবনাথ) আমাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার তাগিদ তার মধ্যে সব সময় লক্ষ্য করি আমরা। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস সুব্রতদের সাহায্যে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে তার পথচলা সুগম হবে।
এসএস/এমএস