বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৬:৩৪ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০১৭

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হককে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।

বুধবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে উপাচার্যের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বাংলায় ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে হুমকি দেয়া হলেও তিনি মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিকেল ৪টার দিকে। ওই থানার ওসি বিষয়টি কাউকে না বলতে অনুরোধ করায় হুমকির বিষয়টি কাউকে বলেননি উপাচার্য। তবে রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে তাদের দেয়া সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ সম্পন্ন করা না হলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হক।

vb

তিনি জানান, বাংলায় ভুলেভরা ক্ষুদেবার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে তাদের দেয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নিয়োগ সম্পন্ন করার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। এটা না করলে তাকে হত্যা করা হবে বলে ক্ষুদেবার্তায় বলা হয়। সারাদিন চিন্তাভাবনার পর বিকেলে বন্দর থানায় জিডি করেন বলে জানান তিনি।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, ভিসি স্যারের সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে আদালতের অনুমতিক্রমে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি পদের বিপরীতে ৪১ জন জনবল নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যার চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ করা হয়নি অভিযোগ তুলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত ১৭ জুলাই নগরীতে মানববন্ধন করে মুক্তিযুদ্ধের সন্তান কমান্ড নামে একটি সংগঠন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রগতিশীল কয়েকটি সংগঠনও ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

bb

২৩ জুলাই থেকে একই দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রলীগ। এই আন্দোলনে তেমন গতি না পেলে ওই দাবির সঙ্গে কিছু মৌলিক দাবি যুক্ত করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্দোলনে এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

পরে সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশে স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক বৈঠকে ৩১ জুলাই অচলাবস্থার অবসান হয়।

সাইফ আমীন/বিএ