তবুও জিপিএ ৫


প্রকাশিত: ০৪:৩৩ এএম, ০৭ জুন ২০১৫

তার নিজের বই ছিল না, পড়তে হয়েছে সহপাঠীদের কাছ থেকে ধার নিয়ে। পরীক্ষার আগে বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফটোকপি করে চালিয়েছে পড়াশোনা। ছিল না কোনো গৃহশিক্ষক। খাতা-কলমের জন্যও অন্যের সহায়তা নিতে হয়েছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি করতে হয়েছে কৃষিকাজ। বিদ্যালয়ে পড়ে যাওয়ার মতো শার্ট ছিল একটিই।

এভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া মেহেদী হাসান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

দারিদ্র্য দমাতে পারেনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের এই মেহেদী হাসানকে। উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

মেহেদী হাসানের বাবা ভূমিহীন শ্রমিক মো. রুহুল আমিনের অভাবী সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে মেহেদীর বেড়ে ওঠা। খেয়ে না খেয়ে প্রতিদিন এক প্রকার সংগ্রাম করে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

মেহেদীর পরিবার ও শিক্ষকেরা জানান, আর্থিক কারণে একসময় তার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু শিক্ষকদের উৎসাহে এগিয়ে যায় মেহেদী। তার মা মোছাম্মৎ মেরীনা পারভীন বাড়িতে হাঁস, মুরগি, ছাগল পালন এবং কাঁথা সেলাই করে যা পেতেন তা দিয়েই ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর চেষ্টা করেছেন।

এ রকম অন্তহীন সমস্যা নিয়ে অভাবের সঙ্গে লড়াই করে চলা মেহেদী জানায়, সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়। কিন্তু, আর্থিক অসচ্ছলতা তার স্বপ্নের পথে প্রধান বাধা। অর্থের অভাবে তার উচ্চশিক্ষা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আকরাম হোসেন জানান, মেহেদীর মেধা দেখে বিদ্যালয় থেকে যথাসাধ্য সহায়তা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকাও তার কাছ থেকে নেয়া হয়নি। কিন্তু ভবিষ্যতে ছেলেটির লেখাপড়ার কী হবে তা ভেবে তারা শঙ্কিত। তিনি গরিব ও মেধাবী ছাত্র মেহেদী হাসানের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সালাউদ্দীন কাজল/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।