ঠাকুরগাঁওয়ের পশুর হাটে ক্রেতা কম, হতাশ খামারিরা
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুকানপুকুরী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাশেম। অনেক আশা নিয়ে গত ৬ মাস ধরে দুটি গরু লালন-পালন করেছেন। কিন্তু হঠাৎ বন্যায় সব আশাই নিরাশায় পরিণত হয়েছে তার। গরু দুটি ছাড়া ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে শেষ অবলম্বন গরু দুটি বিক্রি করতে এসেছেন কোরবানির পশুর হাটে। হাটে গবাদি পশুর আমদানি অনেক বেশি কিন্তু ক্রেতা কম। তাই গরু বিক্রি না হওয়ায় হতাশ আবুল কাশেম।
ঈদুল আজহায় ভালো দামে গরু বেঁচে লাভের মুখ দেখার আশা করেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক খামারি। প্রতি বছরের মতো এবারও হাজার-হাজার গরু মোটাতাজা করেছিলেন তারা। কিন্তু এ বছর ঈদের আগে বন্যার কারণে সে আশা ভঙ্গের শঙ্কায় ভুগছেন খামারি ও কৃষকরা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার অর্ধশত কোরবানির পশুর হাট জমে উঠলেও দাম কম হওয়ায় হতাশ দেশীয় খামারিরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গতবারের ৭০ হাজার টাকার গরু এবার ৫০ হাজার টাকা, ৬০ হাজার টাকার গরু ৪০ হাজার টাকা ও ৪৫ হাজার টাকা দরের গরু ৩০ হাজার টাকা দর উঠেছে।
হাটে আসা ক্রেতা আব্দুল হাকিম জানান, গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম অনেকাংশে কম। বন্যা হওয়ার কারণে আর ভারত থেকে গরু আসার কারণেই হয়তো গরুর দাম কম। বাজারে গরু অনেক কিন্তু ক্রেতা কম।
গরু বিক্রি করতে আসা সাদেকুল ইসলাম জানান, একটু লাভ করার আসায় বাসায় দুটো গরু লালনপালন করছিলাম। গরু দুটোকে মোটাতাজা করতে যা খরচ হয়েছে এখন বিক্রি করতে এসে দেখি গরুর দাম নাই। ভারত থেকে গরু আসায় হয়ত ক্রেতারা গরুর দাম বলছে না।
গরুর খামারি মোতালেব জানান, ভুসি আর খড়ের যে দাম তাতে গরু বিক্রি করি লাভ তো দূরের কথা খরচ ওঠে না।

হাটের ইজারাদাররা জানিয়েছেন, এবার বন্যার কারণে হাটে গরুর আমদানি বেশি। হাটে দেশি গরু অনেক উঠলেও ক্রেতার অভাবে বেচাকেনা অনেক কম। হাট ইজারার টাকা উঠবে কি না তা নিয়ে চিন্তায় আছেন তারা।
এদিকে জেলার প্রতিটি হাট-বাজারে প্রাণি সম্পদ অধিদফতর থেকে মেডিকেল টিম এবং গরু ব্যবসায়ীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষার জন্য জাল টাকা শনাক্তে প্রতিটি হাটে মেশিন বসিয়েছে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ জানান, কোরবানির পশুর হাটে ছিনতাইসহ সকল প্রকার অন্যায় প্রতিরোধে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ গরু ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য সর্বদা সচেষ্ট আছে।
রবিউল এহসান রিপন/আরএআর/আরআইপি