এতিম শিশুদের সঙ্গে ঈদ করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি
প্রতিটি ঈদ সবার জন্য বয়ে আনে অনাবিল আনন্দ। ঈদ উপলক্ষে শপিং সেন্টারগুলোতে দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়। নতুন পোশাক ছাড়া কি ঈদ হয়! শুধু তাই নয়, পোশাক কিনেই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে ছোট শিশুরা। কেউ দেখলে পুরনো হয়ে যাবে তাই।
কিন্তু আমাদের চারপাশে এমন অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু আছে যাদের ঈদ কাটে জরাজীর্ণ পোশাকেই। আমরা তাদের নিয়ে ভাবি না। অনেকেই তাদের দেখেও না দেখার ভান করে বিরক্তি নিয়ে পাশ কেটে যাই। অথচ এরাও সমাজের একটা অংশ। এদেরও নতুন কাপড় পাওয়ার ইচ্ছা আছে। কিন্তু সামর্থ্য নেই।
দেশের অন্যান্য জেলার মতই বাবা-মা বঞ্চিতদের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি শিশু সনদ রয়েছে। তাদের প্রতিটি ঈদ কাটে বাবা-মায়ের স্নেহ ভালোবাসা ছাড়া। সরকারিভাবে অন্যান্য দিনের চেয়ে ঈদের দিন একটু ভালো খাবার সরবরাহ করা হয়ে থাকে শিশু সনদে।
শনিবার ঈদের দিন দুপুরে এবার একটু ভিন্নভাবে ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবারের কোমলমতি শিশুরা এক অভিভাবকের সঙ্গে আনন্দমুখরভাবে ঈদ উদযাপন করেছেন। ওই অভিভাবক শিশুদের জন্য নতুন জামা, নতুন খাবার নিয়ে গেছেন ঈদের দিন দুপুরে। সবাই টিয়া রংয়ের জামা হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে উঠেছিল।
তাৎক্ষণিকভাবে সকল কোমলমতি শিশুরা নতুন জামা পরিধান করার পরে এক অন্য রকম পরিবেশ সৃষ্টি হয় সেখানে। পরে শিশুরা সকলে একত্রিত হয়ে পোলাও মাংসসহ সুস্বাদু খাবার খেয়েছে ওই অভিভাবকের সঙ্গে। সেই অভিভাবকটি হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল।

ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু সনদে থাকা জুই, চামেলী, শিরিনের ভাষ্য, বাবা-মা না থাকায় আমরা অনেকেই সরকারি শিশু পরিবারে থাকি। খুবই ইচ্ছে হয় ঈদের দিন নতুন জামা পরে অন্যান্যদের মতো আনন্দ করতে, ঘুরাঘুরি করতে। কিন্তু সেই সুযোগ হয়ে উঠে না আমাদের মতো বাবা-মা বঞ্চিত সন্তানদের। কয়েক বছর থেকে আমরা শিশু পরিবারে আছি। ঈদ যায়, আর আসে। এই দিনে কিছু ভালো খাবার ছাড়া আর কোনো মনের ইচ্ছেই পূরণ হয় না।
কিন্তু আজ ঈদের দিনে আমরা, আমাদের বাবাকে খুঁজে পেয়েছি। এই বাবা আমাদের জন্য নতুন জামা, ভালো খাবার এনেছেন। সবাই মিলে একসঙ্গে পেট ভরে খেয়েছি। আজকের আনন্দ চিরদিন মনে থাকবে আমাদের।
ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু সনদের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মাহামুদা নুসরাত জাহান বলেন, ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু সনদ (কন্যা) ১শ’ শিশু রয়েছে। ঈদসহ বিশেষ সকল দিবসে তাদের ভালো খাবার সরবরাহ করা হয়। আজ ঈদের দিনে একই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
কিন্তু হঠাৎ জেলা প্রশাসক কোমলমতি শিশুদের কাছে হাজির হয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ, একসঙ্গে খাওয়া, খেলাধুলা উপভোগ করেছেন। তারা সবাই খুবই খুশি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, সকল শিশুই চায় ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে। অনেকেই পারে, আবার কেউ পারে না। তাই কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কিছু উপহার নিয়ে তাদের কাছে এসেছি, উপভোগ করেছি। একজন বাবা হিসেবে সন্তানের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। আমরা সমাজের সকলে যদি অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের একটু সহানুভূতি দেখাই ও সহযোগিতা করি, তাহলে সুন্দর সমাজ গঠনে তারাও ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জহিরুল ইসলাম, সমাজ সেবা অফিসার (রেজি.) সাঈদা সুলতানা।
মো: রবিউল এহসান রিপন/এএম/পিআর