ছেলে সন্তানের শূন্যতা পূরণ করতে গিয়ে...

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১০:৫৯ এএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

টমটম (ইজিবাইক) চালক হাফেজ আহমদের (২৬) দুই কন্য সন্তান রয়েছে। স্ত্রী একটি ছেলে সন্তানের জন্য আকুল। প্রথমবার তাদের কন্য সন্তান হলেও দ্বিতীয়বার ছেলে সন্তানের আশায় সন্তান নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু দ্বিতীয়বারও কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। বাড়িতে একটি ছেলে সন্তানের শূন্যতা বিরাজ করছিল। তাই অভুক্ত রোহিঙ্গা শিশু ছব্বিরকে (৫) নিয়ে বাড়ির সবার এ শূন্যতা পূরণের সুযোগ হাতে পেয়েছিলেন হাফেজ আহমদ। কিন্তু তার সে আশা পূরণ হতে দেননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ।

শিশুটিকে উদ্ধার করে মানবিক সহায়তার পর ক্যাম্পে মাইকিং করে স্বজনদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে হাফেজ আহমদকে আটক ও শনিবার দুপুরে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পাগলির বিল এলাকায় বাস করেন টমটম চালক হাফেজ আহমদ। তার বাড়ি চট্টগ্রামের পূর্ব খৈয়াছড়া এলাকায়।

উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মহাসড়কের জাদিমুরা এলাকায় বসে তারা আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় বস্ত্রহীন কিন্তু হাতে নাস্তাসহ এক শিশুকে হাফেজ আহমদ সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে দেখে সন্দেহ হয়। তাদের আটকানোর পর জানতে পারি এটি রোহিঙ্গা শিশু। ক্যাম্পের বাইরে অভুক্ত ঘুরাফেরা করার সময় খাবার দেয়ার কথা বলায় ছেলেটি টমটম চালক হাফেজ আহমদের সঙ্গে চলে এসেছে।

হাফেজ আহমদ জানান, তার দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। স্ত্রী একটি ছেলে সন্তান ও মেয়েরা একটা ভাইয়ের জন্য আকুল। রাতে শিশু ছব্বিরকে কুতুপালং ক্যাম্পের সামনে রাস্তায় ক্ষুধার্ত অবস্থায় পান। পরে শিশুটির সম্মতিতে নিজের ছেলে হিসেবে লালন-পালনের আশায় বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

মেম্বার সালাহ উদ্দিন আরও জানান, তার কথায় বিশ্বাস না হওয়ায় তাকে দিয়ে তার অবস্থান স্থলের মেম্বারকে ডেকে আনা হয়। তাকে চিনে কিনা জানতে চেয়ে মেম্বারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দিয়ে শিশুটিকে নিজ জিম্মায় রেখে দেয়া হয়। শনিবার সকালে গোপনে লোক পাঠিয়ে সব খোঁজ খবর নিয়ে হাফেজ আহমদের রাতের কথার সত্যতা পাওয়া যায়। তাই হাফেজ আহমদকে আইনের হাতে না দিয়ে এ রকম কাজ আর না করতে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

পরে মানবিক সহায়তা (নতুন জামা ও খাবার) দিয়ে শনিবার দুপুর ২টার দিকে শিশুটিকে ক্যাম্পে নিয়ে তথ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে মাইকিং করে তার মা-ভাই ও দাদির হাতে তুলে দেয়া হয়।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।