নদীর ওপারে বাবা-মা, এপারে সন্তানরা

আজিজুল সঞ্চয়
আজিজুল সঞ্চয় আজিজুল সঞ্চয় শাহপরীর দ্বীপ থেকে
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

প্রাণ ভয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে মিয়ানমারের নাফ নদী পেরিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপে এসেছে মুসলিম রোহিঙ্গা শিশু আনিসা (১০)। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত শাহপরীর দ্বীপেই ছোট তিন ভাই-বোনকে নিয়ে অবস্থান করছিল আনিসা। সেখানেই জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তার।

সে জানায়, নাফ নদীর ওপারে রাখাইন রাজ্যের সীমান্তবর্তী গদুচড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। সেখানকার একটি বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে সে। বাবা রহমত উল্লাহ্ আর মা জায়নব বেগম এখনও ওপারেই রয়ে গেছেন। সেনা সদস্যদের বর্বর হামলার কথা জিজ্ঞেস করতেই ভয়ে আতকে ওঠে আনিসা।

Anisa

মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গা নিধনকারী সেনাদের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে আনিসাদের তিনটি দোকান। আনিসার ভাই হাফেজ সিদ্দিকও সেনাদের গুলিতে আহত হয়েছে। প্রাণভয়ে নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে শাহপরীর দ্বীপে।

Anisa

আনিসা আরও জানায়, পরিবারের ১৫ সদস্যদের মধ্যে কেবল ৪ জনই নদী পার হয়ে এপারে আসতে পেরেছে। তবে আনিসার বাবা-মা বাকি সদস্যদের জন্য এখনো মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থান করছে। প্রাণ ভয়ে শুধুমাত্র এক জোড়া কাপড় নিয়ে শাহপরীর দ্বীপে আশ্রয় নেয়া আনিসা জানে না না তার বাবা-মা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে। তবুও বাবা মায়ের অপেক্ষায় ভাই-বোনদের নিয়ে শাহপরীর দ্বীপে বসে আছে ছোট্ট শিশুটি।

Anisa

এদিকে গত প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা আবুল কালাম নামে এক বৃদ্ধ রোহিঙ্গা শরণার্থী গত তিনদিন ধরে স্ত্রী, পুত্রবধূ আর নাতনিকে নিয়ে শাহপরীর দ্বীপে অবস্থান করছেন। এখান থেকে কোথায় যাবেন বা কি করবেন কিছুন জানেন না তিনি। শাহপরীর দ্বীপে এমন অসংখ্য রোহিঙ্গা শরণার্থী শাহপীরর দ্বীপসহ টেকনাফ ও উখিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু তারা কেউই জানেন না তাদের বাঁচার এ লড়াই কবে শেষ হবে কিংবা প্রিয় মাতৃভূমিতে যে অশান্তির আগুন জ্বলছে সেটি নেভানোর জন্য কোনো জাতি কিংবা দেশ এগিয়ে আসবে কি না।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।