গাজীপুরে সিটি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাসবর্জন
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা সংলগ্ন ইটাহাটা এলাকায় অবস্থিত সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে এবং ওই মেডিকেল কলেজ থেকে অন্য মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশনের দাবিতে ক্লাসবর্জন ও মানববন্ধন করেছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, মেডিকেল কলেজের নিজস্ব কোনো ভবন, জমি ও ক্যাম্পাস নেই। এছাড়া হাসপাতালের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী নেই। বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষকও নেই।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)র নীতিমালা মেনে না চলার কারণে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম এবং বিএমডিসির অনুমোদন স্থগিত করা হয় এবং সব শর্ত পূরণ করার জন্য এক বছর সময় দেয়া হয়।
কিন্তু এসময়ের মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষ সরকারি শর্ত পূরণ করতে পারেনি। ফলে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পূর্ব ঘোষিত সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবন নিয়ে অনিশ্চিয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অনুমোদনহীন মেডিকেল কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে অনিচ্ছুক। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা বিএমডিসি কর্তৃক অনুমোদিত মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করার জন্য দাবি জানিয়েছে।
মেডিকেল কলেজের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ কলেজে নেপাল ও ভারতের অন্তত ২৭ জন শিক্ষার্থীসহ তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। ওই তিন ব্যাচের অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশনের শর্ত পূরণের জন্য কলেজের অধ্যক্ষ, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিভিন্ন সময় তাগিদ দিলেও এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পাচ্ছে না। তাদের দাবি, ওই তিন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করতে না পারলে তাদের অন্য কোনো অনুমোদিত কলেজে তাদের মাইগ্রেশনের সুযোগ করে দেয়া হোক।
শিক্ষার্থী তাসমিনা আনিকা জানান, ১৬ লাখ টাকা দিয়ে এ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। প্রতি বছর সেশন ফি বাবদ ৭২ হাজার টাকা এবং প্রতিমাসে ৮ হাজার টাকা করে বেতন দিচ্ছেন। আর অন্যান্য ফি তো রয়েছে। তিনি শেষ পর্যায়ে এসে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
কলেজ সেক্রেটারি অশোক কুমার রায় বলেন, বিএমডিসি এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দুই বছর ছাড়া অন্য শিক্ষাবর্ষের জন্য অনুমোদন না দিলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দিয়েছে। তবে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর বিএমডিসি তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।
মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/আরআইপি