ঠাকুরগাঁওয়ে ওএমএস’র চাল বিক্রিতে সাড়া নেই
ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারের খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রিতে তেমন সাড়া মিলছে না। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য হাতে নেয়া এই কার্যক্রম তাদেরকে খুব বেশি আকৃষ্ট করতে পারেনি।
মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ের ২৪টি পয়েন্টে ওএমএস’র চাল বিক্রি শুরু হয়েছে।
এ বছর হাওরে বন্যা ও ব্লাস্ট রোগে ধানের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়। এ কারণে বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চাল আমদানিতে শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ, বিনা জামানতে চাল আমদানির সুযোগ, সরকারি উদ্যোগে চাল কেনাসহ নানা ধরনের সিদ্ধান্ত হয়। তবুও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম। এতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ভোক্তারা।
জেলা খাদ্য অধিদফতর জানিয়েছে, প্রতিজন ডিলার ১ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করতে পারবেন। যে পরিমাণ চাল গুদামে মজুদ আছে আগামী কয়েক মাস ভালোভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে ওএমএস কার্যক্রম চালু রাখা যাবে।

ওএমএস চাল বিক্রির বিষয়টি জনগণ না জানায় প্রথম দিনে তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। তবে আগামী দিনে ভিড় থাকবে। বিগত দিনে এই কর্মসূচিতে চালের মূল্য ছিল ১৫ টাকা। তবে এবার তা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। প্রতিকেজি চাল ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ওএমএস চালু করা হলেও খুচরা বাজারে চালের দামে কোনো প্রভাব পড়েনি।
মঙ্গলবার পৌর চাল বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট ৬০-৬২ টাকা, জিরাশাইল ৫৮-৬০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের চাল ৫৪-৫৫ টাকা, পারিজা ৪৮-৫০ টাকা, এলসি ৫০ টাকা। গত ১ সপ্তাহে ৫৯ কেজি ওজনের বস্তা প্রতি ২০০-২৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। চালের দাম উর্ধ্বমূখী হওয়ায় অস্বস্থিতে সর্বস্তরের মানুষ।
ওএমএস চাল ক্রয় করার সময় কথা হয় শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে ৬০ টাকা কেজি দরে চাল ক্রয় করা সম্ভব নয়। তাই সরকার খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু করেছে। কিন্তু এই চাল কিনতে হচ্ছে ৩০ টাকা দরে যেটা আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব প্রায়। সরকার যদি ২০/২৫ টাকা দরে চাল দিত তাহলে আমরা উপকৃত হতাম।
ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশ্ররাফুজ্জামান বলেন, জনগণের সুবিধার জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের ২৪টি পয়েন্টে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য বিভাগ বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং করছে।
রবিউল এহসান রিপন/আরএআর/জেআইএম