৪ দিন ধরে নিখোঁজ দুই হিন্দু রোহিঙ্গা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০২:৩৭ এএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
ফাইল ছবি

মিয়ানমারের রাখাইনে পাশবিকতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা দুই হিন্দু ৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গত রোববার থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন আশ্রিত রোহিঙ্গা হিন্দু নিখোঁজ হন। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত চার দফায় ৮ জন ফিরে আসলেও অপর দুজন ফিরে আসেনি। উখিয়ার কুতুপালংয়ে আশ্রিত হিন্দুদের সেবক সুজন শর্মা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর দুই হিন্দু আশ্রিত নিখোঁজ উল্লেখ করে উখিয়া থানায় লিখিত জানানো হয়েছে। মিয়ানমারে ফেলে আসা গরু বিক্রির টাকা আনতে গিয়ে তারা নিখোঁজ হন বলে দাবি করা হয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন, মিয়ানমারের ছিকনছড়ি এলাকার নিরঞ্জন শীল (৬০), রবীন্দ্র শীল (৫৫)। এছাড়া ফিরে আসা আহত হিন্দুরা হলেন, ছিকনছড়ির সুরধনের ছেলে মধু রাম পাল (৩৫), সুরধন পাল, তেজন্দ্র পাল (২৮), অনিল রুন্দ্র ও কাজল শীল। বাকিদের নাম পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যে আহত অনিল রুন্দ্র, কাজল শীলের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত অবস্থায় ফিরে আসাদের বরাত দিয়ে তাদের দেখভালের দায়িত্বরত বাবুল শর্মা বলেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া হিন্দুরা রাখাইনে প্রায় ৩৫টি গরু-ছাগল ফেলে আসে। সেসব নিয়ে এসে বিক্রি করে রাখাইনে তাদের প্রতিবেশী অলি উল্লাহ, ইমাম হোছন, নুরুল হকের কাছে। তারা গরু-ছাগল বিক্রির সাড়ে ৫ লাখ টাকা নেয়ার কথা বলে সীমান্তের ওপারে তাদেরকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তারা আরো জানায়, একটি নদী পার হওয়ার পর তাদের চোখ বেধে নির্যাতন চালানো হয়।

হিন্দু আশ্রিতদের মুখপাত্র ও উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালংয়ের ইউপি সদস্য স্বপন শর্মা রনি বলেন, আশ্রিত ১০ হিন্দু আমাদের অগোচরে যায়। এর মধ্যে ফিরে আসা ৮ জন তাকে বলেন মিয়ানমারের বাসিন্দা এবং পরিচিত হওয়ার সুবাদে তাদের খোঁজ নিতে আসে সেখানকার মুসলিম প্রতিবেশীরা। পরে ফোন করে গরু বিক্রির টাকা নেয়ার কথা বলে তাদেরকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করেছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

এ ঘটনায় এখনো দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং এ বিষয়ে উখিয়া থানায় লিখিত জানানো হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন তিনি।

তবে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, নিখোঁজের বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পায়নি। তবে সম্ভাব্য স্থানে পুলিশি অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।