একই পরিবারের ৪ জন নিহত : বাড়িতে চলছে শোকের মাতম


প্রকাশিত: ১০:৩৩ এএম, ১৫ জুন ২০১৫

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের নবীগঞ্জ এলাকায় সোমবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। তাদের বুকফাটা আর্তনাদে উপস্থিত লোকজনও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। সড়ক দুর্ঘটনায় সেনা সদস্যসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার খবরে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলংয়ের মোহাম্মদপুর এলাকায় নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। নিহত সেনা সদস্য আব্দুল কাদিরের নিকত্মীয় ও স্বজনরা বিলাপ করছেন। কিছুতেই যেন থামছে না তাদের বুকফাটা আর্তনাদ। পবিবারের নিহত সদস্যদের নানা স্মৃতি মনে হলেই কেঁদে উঠছেন নিকটাত্মীয়রা।

সেনা সদস্য আব্দুল কাদিরের বাবা আব্দুল হামিদ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি ছোট ছেলে আব্দুল আজিজকে নিয়ে জাফলংয়ে ষ্টোন ক্রাশার মিলের ব্যবসা করছেন। বাবার পথ অনুসরণ করে প্রায় একযুগ আগে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সদস্য হিসেবে যোগদান করেছিলেন আব্দুল কাদির।

বছর দেড়েক আগে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আফ্রিকার দেশ মালিতে গিয়েছিলেন কাদির। মিশন শেষে মাস খানেক আগে দেশে ফেরেন তিনি। ছুটি পেয়ে গত বৃহস্পতিবার বাবা-মা, ছোট বোন ও স্ত্রী সন্তানসহ ক­ুমিল্লায় আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যান কাদির।

আত্মীয় বাড়ি বেড়ানো শেষে রোববার রাতে জাফলংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা করেন তারা। পথিমধ্যে ভোর ৫টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ দেবপাড়া এলাকায় ঢাকা অভিমুখী পাথরবোঝাই একটি ট্রাকের (ঝিনাইদহ-ট-১১-১২৯৪ ) সাথে তাদের বহনকারী প্রাইভেট কার (সিলেট-খ-১১-০৩৪৫) টির সজোরে মুখোমুখি ধাক্কা লাগলে প্রাইভেট কারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই সেনা সদস্য আব্দুল কাদির, তার বাবা অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল হামিদ, মা কুলসুমা বেগম, ছোট বোন শারমিন আক্তার ও প্রাইভেটে কার চালক শাহ আলম মারা যান।

দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন নিহত সেনা সদস্য কাদিরের স্ত্রী লাভলী বেগম ও একমাত্র মেয়ে নুসরাত জাহান লামিয়া। তারা দু`জনই হবিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ছামির মাহমুদ/এসএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।