টাঙ্গাইলে কোরবানির জন্য চাহিদার তুলনায় বেশি ৪০ হাজার পশু
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে টাঙ্গাইলে পশুর যত্ন-পরিচর্যা বাড়িয়েছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এবার জেলায় চাহিদার চেয়ে ৩৯ হাজার ৯৮৩টি বেশি পশু পালন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে পশুর দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। তবে ভারতীয় গরু প্রবেশ না করলে গরুর দাম ভালো পাবেন বলে আশা খামারিদের।
জানা গেছে, গবাদি পশুগুলোকে খাওয়ানো হচ্ছে দেশীয় খাবার খড়, খৈল, ভূষি, গুড়ের চিটা, লবণ, চাল-ডাল ও ছোলার-গুঁড়োসহ চাষ করা নেপিয়ার ঘাস। এছাড়া কোরবানি উপলক্ষে পশুগুলোকে নিয়মিত গোসল করানো, পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা সবকিছুতেই বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন খামারিরা।
গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। ফলে একটি পশু মোটাতাজা করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। এতে করে লাভের হিসাব মিলাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা।
খামারিরা জানান, বর্তমানে আগের থেকে পশুর খাদ্যের দাম অনেক বেশি। বর্তমানে পশু পালন কষ্টসাধ্য কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে আমাদের লাভ কম হচ্ছে। টাঙ্গাইলে পর্যাপ্ত গরু-ছাগল রয়েছে। বাইরে থেকে পশু আনতে হবে না। তবে এবার আমরা ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। যদি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বা মিয়ানমার থেকে গরু আসে, তাহলে প্রান্তিক খামারিদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস জানায়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জেলায় ১২টি উপজেলায় ২৬ হাজার ৭৫৯টি খামারে এবার ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এসব পশুর বিপরীতে জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৭৮ট। ফলে ৩৯ হাজার ৯৮৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এর মধ্যে কোরবানির জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার ২৭৮ টি গরু, ছাগল ১ লাখ ৭ হাজার ৩৮টি, ভেড়া ৯ হাজার ১৭৭টি এবং মহিষ রয়েছে ৫০০টি প্রস্তত করা হয়েছে।
খামারি মীর সজিবুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ৪০টি গরু প্রস্তত করেছি। গরুগুলোকে প্রাকৃতিক উপায়ে খাবার খাওয়ানো হয়। গত বছরের চেয়ের এবার গোখাদ্যের দাম বেশি। দেশের বাইরে ভারত থেকে যদি গরু চলে আসে তাহলে আমরা খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খামারিরা যেন ন্যায্য মূল্য পায় তা সরকারের দেখা উচিৎ।
তিনি আরও বলেন, আমার খামারে বেশ কয়েকটি বড় গরু রয়েছে। প্রত্যেকটির আলাদা নাম দেওয়া হয়েছে। আশা করছি সব কিছু ঠিক থাকলে বেশ লাভবান হবো।
আরেক খামারি সুমন জাগো নিউজকে বলেন, সারা বছরই গরু লালন পালন করি। কিন্তু কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এবার ৩০ থেকে ৩৫ টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে গরু লালন-পালন করতেও এবার খরচ বেশি হয়েছে। সঠিক দাম পাবো কি না তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত রয়েছি।
গরুর খামারের সুবাহান মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুগুলো পালন করা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক গরু দেখাশুনা করছি। যখন যা লাগছে গরুকে দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিতই আমরা পরিচর্যা করছি।
আরেক কর্মচারী সোহেল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, সন্তানের মতই খামারের প্রতিটি গরুই লালন পালন করেছি। গোসল থেকে শুরু করে ঘাস খাওয়ানো পর্যন্ত সবই করা করে থাকি।
ক্রেতারা বলেন, আমরা বিভিন্ন খামারে গরু দেখছি। অনেক গরুই আমাদের পছন্দ হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে কোরবানির জন্য গরু কিনবো।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন খান বলেন, ১২টি উপজেলাতেই খামারিরা গরু লালন পালন করছেন। জেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে যাতে খামারিরা গরুদের খাবার দেয় এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগের প্রতিবেশী দেশ থেকে যদি পশু আমদানি করা না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।
তিনি আরও বলেন, খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খামারিদের আমরা সহায়তা দিয়ে আসছি। হাটগুলোতে আমাদের মেডিকেল টিম থাকবে।
আব্দুল্লাহ আল নোমান/এনএইচআর/এমএস