যৌতুকের আগুনে পুড়ল আরও এক প্রাণ
যশোরের চৌগাছায় নাজমা বেগম (২৫) নামে এক নারীকে নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাতে চৌগাছা উপজেলার বহিলাপোতা গ্রামে তার শ্বশুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যৌতুকের দাবিতে শ্বশুর ও শাশুড়ি ‘নির্যাতন ও মুখে বিষ ঢেলে’ তাকে হত্যা করেছে বলে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ।
নিহত নাজমা বেগম মালয়েশিয়া প্রবাসী ইকরামুল হোসেনের স্ত্রী ও একই উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের মৃত আজগর আলীর মেয়ে। নাজমা বহিলাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যও ছিলেন। তার ৬ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
মৃত নাজমার মামা সামাউল ইসলাম ও বোন জামাই আরমান আলী জানান, সাত বছর আগে পিতা-মাতাহীন এতিম নাজমার বিয়ে হয় বহিলাপোতা গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে একরামুলের সঙ্গে। বিয়ের পরে সাইকেল, ঘড়িসহ আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র দেয়া হয়। তবুও নাজমার শ্বশুর-শাশুড়ি যৌতুকের জন্য নাজমাকে নির্যাতন করত।
চলতি বছরের শুরুর দিকে নাজমার স্বামী একরামুল বিদেশ যাওয়ার সময় যৌতুকের টাকা এনে দিতে বলে। সেসময় নাজমা বাবার বাড়ি যে জমি পেত তা বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা দিয়ে একরামুলকে বিদেশ পাঠানো হয়। এরপরও বিভিন্ন দাবিতে নাজমার ওপর নির্যাতন চলতো।
দুই-তিন মাস আগেও নাজমার শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে মারধর করে। আমরা এসে মীমাংসা করে দিয়ে যাই। সোমবার সকালে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখি নাজমার মৃত্যু হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, নাজমার গলায় এবং শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। নাজমার শ্বশুর ও শাশুড়ি নির্যাতনের পর তার মুখে কীটনাশক ঢেলে দিয়েছে।
তবে নাজমার শ্বশুর আলাউদ্দিন জানান, রাত ১২টার দিকে সে বিষ খায়। রাত একটায় হাসপাতালে নিয়ে আসি। সকালে তার মৃত্যু হয়।
হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমি যা বলেছি এর বেশি কিছু জানিনা।’
তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক আব্দুল হাই জানান, ‘ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে নাজমাকে হাসপাতালে আনা হয়।’
নিহতের চাচাতো ভাই ও সুখপুকুরিয়া ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ দেখে কোনোভাবেই আত্মহত্যা মনে হচ্ছে না। আমরা এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিলন রহমান/এফএ/আইআই