খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বাজেট ঘোষণা


প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ১৮ জুন ২০১৫

২০১৫-১৬ অর্থ-বছরে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ৪২২ কোটি ৬০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এ বাজেট ঘোষণা করেন।

কেসিসি’র অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ মো. গাউসুল আযমের সভাপতিত্বে বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে কেসিসি’র প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তাসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৭ কোটি ৫৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং সরকারি অনুদান ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৫ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে সিটি মেয়র ২০১৪-১৫ অর্থ-বছরের ২৭৪ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও ঘোষণা করেন।

সিটি মেয়র ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরের বাজেটকে উন্নয়নমুখী বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ বাজেটে নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও সেবারমান উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঘোষিত বাজেটে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নসহ সামাজিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাজেটে কেসিসি`র ভৌত অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

বাজেটের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে সিটি মেয়র বলেন, এ বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়নি। বকেয়া পৌরকর আদায়, নবনির্মিত সব স্থাপনার ওপর হালনাগাদ কর ধার্য্য এবং নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা হবে। ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরের বাজেটে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং রেল ক্রসিংয়ে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আরো বলেন, মহানগরীর উন্নয়ন, শ্রীবর্ধন এবং মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বস্তির জন্য আগামীতে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া বাজেটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ বসতবাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে।

বাজেটের উল্লেখযোগ্য দিক বর্ণনা করে সিটি মেয়র বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরে জাতীয় এডিপিতে কেসিসি`র দুটি অনুমোদিত প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির থোক বরাদ্দ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ থোক বরাদ্দ থেকে পূর্ত খাতে ২৩ কোটি ৪৪ লাখ, ভেটেরিনারি খাতে ১০ লাখ, জনস্বাস্থ্য খাতে ৫ কোটি ৮০ লাখ,  কঞ্জারভেন্সি খাতে ৫ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার এবং বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি পানি খাতে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় অপ্রতুল হওয়া স্বত্তেও অফিস পরিচালনার দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করে রাজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে ৪৯ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দাতা সংস্থার ৭টি অনুমোদিত প্রকল্পে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দু’শ ১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
 
সিটি মেয়র বলেন, খুলনা মহানগরীকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন (কেএফডব্লিউ), এফএওসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতা কামনা করা হয়। তারা আমাদের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন। তাদের অর্থায়নে ‘নগর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্পে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড প্রকল্পে ৫১ কোটি, আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ৫০ কোটি, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও কেএফডব্লিউ সহায়তাপুষ্ট নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পে ১০০ কোটি, ফুড সেফটি প্রোগ্রাম প্রকল্পে ১৫ লাখ, বাংলাদেশ দক্ষিণ অঞ্চল শহর কেন্দ্রের দারিদ্র্যবান্ধব ও বাজার ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে ৩২ কোটি ও আরবান ম্যানেজমেন্ট অব ইন্টারনাল মাইগ্রেশন ডিউ টু ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন খুলনা সিটি কর্পোরেশন প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
 
বাজেট ঘোষণাকালে কেসিসি মেয়র বলেন, খুলনা মহানগরীকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে বেশকিছু প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। ১১টি প্রকল্পের মধ্যে প্রথম ৫টি প্রকল্প সরকারের সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকারি অনুদান পেলে প্রকল্পগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, খুলনা মহানগরীর উন্নয়নের জন্য এ বাজেট ঘোষণার পরিসর ক্ষুদ্র হলেও এর সুদূর প্রসারী তাৎপর্য রয়েছে। এ বাজেট খুলনা মহানগরীর সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ রচনা করবে। মহানগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বস্তি নিশ্চিত করবে। আমরা আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চাই। এক্ষেত্রে আমাদের মেধা, মনন, শ্রম এবং পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে খুলনা মহানগরীর গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

উপস্থিত সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনদের প্রশ্নের উত্তরে সিটি মেয়র বলেন, খুলনা মহানগরীকে সর্বাঙ্গীন সুন্দর একটি নগরীতে পরিণত করতে আমাদের আন্তরিকতা এবং প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই। যেকোনো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা ও অর্থের। অর্থ-সংস্থানের জন্য একটি স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন শুধুমাত্র সরকারি বা বিদেশি সাহায্য ও ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারেনা।

এ প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সব শ্রেণির নাগরিকের পরিপূর্ণ আন্তরিকতা ও সহযোগিতা। কর্পোরেশনের ওপর যেমন দায়িত্ব রয়েছে নগরবাসীর নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা করা, তেমনি নাগরিকদেরও কর্তব্য রয়েছে কর্পোরেশনকে তার কাজে সার্বিক সহযোগিতা করা।

আলমগীর হান্নান/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।