এই না হলেন জনপ্রতিনিধি
মো. ফয়সাল আহমেদ সরকার। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ডের একজন সফল কাউন্সিলর। তিনি তার কর্মদক্ষতা এবং ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতোমধ্যে ওয়ার্ডে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। তার এ কর্মকাণ্ড অন্য কাউন্সিলরদের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করেন ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ।
২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৫নং ওয়ার্ড থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন ফয়সাল আহমেদ সরকার। পরিবহনের শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত থেকে দীর্ঘদিন শ্রমিক রাজনীতি করে আসছেন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ সরকারের। তিনি তার ব্যতিক্রমধর্মী কর্মকাণ্ডের কথা একে একে তুলে ধরেন।
তিনি জানান, নির্বাচিত হওয়ার ৭-৮ মাস পর সিটি কর্পোরেশন থেকে তার প্রাপ্ত সম্মানী তিনি ওয়ার্ডের বয়স্ক নারী-পুরুষদের ভাতার জন্য দিয়েছেন। প্রতি মাসে ১৫০ জন বয়স্ক নারী-পুরুষ জনপ্রতি তিনশ টাকা করে পান। এ জন্য তার সম্মানী ভাতার পুরো প্রদানের পরও অতিরিক্ত টাকা নিজের পকেট থেকে দেন।
প্রায় ২৫ হাজার ভোটার সম্বলিত এ ওয়ার্ডে দেশের বিভিন্ন জেলার লোক ভাড়া থাকে এবং বিভিন্ন শিল্প কলকারখানায় চাকরি বা ব্যবসা করেন। এখানে নিম্ন আয়ের লোকসংখ্যাও উল্লেখ্যযোগ্যসংখ্যক।
এ ওয়ার্ডে কোনো ভাড়াটিয়া বা কোনো ব্যক্তি মারা গেলে কাউন্সিলরের নিজ উদ্যোগে দাফন-কাফনসহ মরদেহ মৃত ব্যক্তির গ্রামের বাড়িতে পাঠানের যাবতীয় খবচ তিনি নিজে বহন করেন। এছাড়া আর্থিক অবস্থা বুঝে তাদের কুলখানি করারও ব্যবস্থা করেন।
তার ওয়ার্ডে সরকারি কোনো কবরস্থান না থাকায় তিনি তার ওয়ার্ডে ১৪ কাঠা জমি নিজ অর্থে ক্রয় করেছেন কবরস্থানের জন্য, যা তিনি ওয়াকফ করে দিচ্ছেন। এছাড়া তার এলাকায় অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্য করেন।
মঙ্গলবারও তিনি ১৯ পরিবারকে প্রায় ৬০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এরা সবাই তাদের ভাড়া বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।
এছাড়া ওয়ার্ডের অসুস্থ মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর জন্য নিজ অর্থে একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্রয় করেছেন। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে এ অ্যাম্বুলেন্স বিনামূল্যে সার্ভিস দেয়া শুরু করবে। তিনি তার ওয়ার্ড থেকে প্রতি বছর দুই ব্যক্তিকে তার নিজ অর্থে পবিত্র হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
আমিনুল ইসলাম/এফএ/আরআইপি