ফেসবুকে ধর্ষণের ভিডিও, দুই ধর্ষক রিমান্ডে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ১১:৫৫ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে প্রচারের ভয়ে আত্মহত্যাকারী পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার আলোচিত স্কুলছাত্রী রহিমা আক্তার সোনিয়ার মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে দাফনের ছয়দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহরাব হোসেনের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

এ সময় তেঁতুলিয়া থানা পুলিশের ওসি সরেস চন্দ্র, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আব্দুস সবুর, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানা, পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার তেঁতুলিয়া আমলি আদালত ৪-এর বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সোনিয়ার মরদেহ উত্তোলনের আদেশ দেন।

একই দিন আদালতে পুলিশ অভিযুক্ত দুই ধর্ষকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের পোঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অভিযুক্ত ধর্ষক মনসুর আলী রাজন ও আতিকুজ্জামান আতিক তিন মাস আগে সোনিয়াকে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণ চিত্র ভিডিও করে রাখেন। এদের মধ্যে রাজন তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওয়ার্ডবয় এবং আতিক একটি মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট। তারা ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে প্রচারে ভয় দেখিয়ে সোনিয়াকে দফায় দফায় ধর্ষণ করেন।

তাদের অব্যাহত হুমকিতে গত মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সোনিয়া। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা রুজু করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বুধবার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে।

তবে ঘটনার পর সোনিয়ার পরিবার অভিযুক্ত রাজন এবং আতিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করতে গেলে মামলা নিতে টালবাহানা শুরু করে পুলিশ।

অবশেষে ঘটনার ৫ দিন পর শনিবার (১৪ অক্টোবর) সোনিয়ার মা সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে রাজন ও আতিকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর ক ধারায় একটি মামলা করেন।

সোমবার রাজন ও আতিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। একই দিন পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত একজন নির্বাহী মেজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সোনিয়ার মরদেহ উত্তোলনেরও আদেশ দেন।

এ সময় পুলিশ অভিযুক্ত ২ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে। পর দিন মঙ্গলবার শুনানি শেষে প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

নির্বাহী মেজিস্ট্রেট মো. সহরাব হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সোনিয়ার মরদেহ উত্তোলন করা হয়। কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের পর আলামত সংগ্রহ শেষে আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে আবারও মরদেহ পাঠানো হয়।

বাদী পক্ষের আইনজীবী হাবিব আল আমিন ফেরদৌস বলেন, সঙ্গত কারণে আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে কয়েকজন আইনজীবী বাদী পক্ষে অবস্থান নেই। পুলিশের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন এর ওপর দীর্ঘ শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত অভিযুক্ত দুই ধর্ষকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তেঁতুলিয়া থানা পুলিশের ওসি সরেশ চন্দ্র বলেন, সোনিয়া আত্মহত্যার সংবাদ পরিবারের কাছ থেকে লিখিতভাবে পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা রুজু করা হয়। পর দিন ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর ক ধারায় মামলা করা হলে আদালতে নির্দেশে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলনের আদেশ দেন।

সফিকুল আলম/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।