মুন্সীগঞ্জে ২২ দিনে সাড়ে ৪ টন মা ইলিশ জব্দ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
মুন্সীগঞ্জে ২২ দিনে সাড়ে ৪ টন মা ইলিশ জব্দ

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরায় চলতি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জ জেলার সীমানাধীন নদীগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে ৪ হাজার ৪৩৯ কেজি মা ইলিশ জব্দ করেছে। বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করা হয় প্রায় দুইশ জেলেকে। তাছাড়া জেলে কর্তৃক হামলার শিকার হয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।

দেশের অন্যান্য নদী গুলোরমতো ইলিশ প্রজনন সময় মুন্সীগঞ্জের পদ্মা-মেঘনা নদীতে কঠোর নজরদারি থাকে। পাশাপাশি ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই ২২ দিন মা ইলিশ আহরণ-ক্রয়-বিক্রয় পরিবহনে উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকে সরকারের পক্ষ থেকে। আবার ২৩ অক্টোবর থেকে ৯ দিন এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয় এবং পুনরায় ৩০ জুন পর্যন্ত টানা ৮ মাস জাটকা (৯ ইঞ্চির কম সাইজের ইলিশ) নিধন ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকে। কিন্তু প্রতিনিয়তই দেখা যায় কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ ও জাটকা নিধন করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট নদীগুলোতে।

গত বুধবার পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনারকালে জেলের হামলায় আহত হয়েছে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসানসহ আরও ২ জন। ঘটনায় দিন (১৮ অক্টোবর) অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে লৌহজং থানায় মামলা করা হয়। তবে আসামিরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ অলিয়ুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মামলা দায়ের করার হয়েছে ৫ দিন আগে। এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আমাদের তো প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই তাই মামলা করার পর সবকিছুই থাকে পুলিশের হাতে। কোনো অজ্ঞাত কারণে লৌহজং পুলিশ এতো উদাসীন তা আমাদের বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, সিনিয়র উপজেলা (লৌহজং) মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান অজ্ঞাতনামা দুইশ জনকে বাদী করে মামলা করেন। এ ঘটনায় বাদীসহ সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা ইদ্রিস তালুকদার এবং সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাসেল মোল্লা আহত হন।

লৌহজং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রাহমান জানান, মামলায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অজ্ঞাত মামলা তাই আসামিদের সনাক্তকরণে প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত মূল হোতাদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমের ৭৩টি মোবাইল কোর্ট ও ১১৮টি অভিযানের মাধ্যমে ৮৭ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৪ হাজার ৪৩৯ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। ৯১ জেলেকে কারাদণ্ড ও ১৭৮ জেলের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়। জরিমানার দুই লাখ ২২ হাজার ১০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। জেলা মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযান চালনো হয়। অভিযানে জব্দকৃত মাছ বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় দিয়ে দেয়া হয়েছে এবং জব্দকৃত জালগুলো পুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/আরএআর/জেআইএম