স্কুল ছেড়ে ইটভাটায় সাতক্ষীরার শিশুরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১২:৪৪ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০১৭

কাজের সন্ধানে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতে যাচ্ছে বিভিন্ন স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। শিশুশ্রম বন্ধে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও আইনের কোনো বাস্তবায়ন নেই এখানে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর গ্রাম। শুধুমাত্র এ গ্রাম থেকেই দেশের বিভিন্ন ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিভিন্ন স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থীদের। ইটভাটার সরদারের খপ্পরে পড়ে কখনও লোভের বসে আবার কখনও বা পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে তাদের শিশুদের ইটভাটায় শ্রমিকের কাজে পাঠায় পরিবার।

নুরনগর গ্রামের রহমত আলী জাগো নিউজকে বলেন, পরিবারে অভাব। আমার একার রোজগারে পাঁচজনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। যার কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই স্কুল পড়ুয়া শিশু ছেলেকে ইটভাটায় কাজ করার জন্য পাঠিয়েছি।

ইটভাটায় এসব স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পাঠানোর ফলে একদিকে শিশুশ্রম আইনের ব্যবহার হচ্ছে না অন্যদিকে শিক্ষার আলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছে শিশুরা।

এভাবে শিক্ষার আলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছে হাজারও শিশু। যেসব শিশুদের ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেসব শিশুদের বয়স ৮-১৪ বছরের মধ্যে।

এ শিশুদের ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন পথ অবলম্বন করে ভাটার সরদার। এমন অবস্থা শুধু শ্যামনগর উপজেলাতে নয় সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলার চিত্র একই।

এক অভিভাবক বলেন, এক মৌসুমের জন্য শিশুকে ইটভাটায় কাজে পাঠিয়ে ৪০-৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। আমরা অভাবী মানুষ। পরিবার পরিজনদের নিয়ে সংসার চালাতে আমাদের বিকল্প উপায় থাকে না।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, এমন হওয়ার কথা না। এ ছাড়া শিশুদের ইটভাটায় শ্রমিকের কাজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগও কাছে আসেনি। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র আইনের প্রয়োগ নয় এর জন্য জনসচেনতাও জরুরি। যদি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা না যায় তবে শিশুশ্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

আকরামুল ইসলাম/এএম/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।