শেরপুরে মৃগী নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি


প্রকাশিত: ০১:৫৬ পিএম, ৩০ জুন ২০১৫

বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোতে শেরপুরের মৃগী নদীতে শুরু হয়েছে ভাঙন। মৃগী নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে সদর উপজেলার বলাইয়ের চর ইউনিয়নের জঙ্গলদী নতুনপাড়া গ্রামে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এলাকার প্রায় পঞ্চাশ একর ফসলি জমি ও ৮টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
    
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণের সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের তোড়ে মৃগী নদীতে পানির প্রবল স্রোত তৈরি হয়। একসপ্তাহের ব্যবধানে জঙ্গলদী নতুনপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ২ একর, শহিদুল ইসলাম পণ্ডিত ও তার ভাগী অংশীদের ৩ একর, বাবুল মিয়া ও চার ভাইয়ের বাড়িভিটাসহ ৬০ শতাংশ, শাহ আলমের ৫০ শতাংশ, রফিকুল ইসলামের ৫০ শতাংশ, আব্দুল খালেকের ২৫ শতাংশ, সাহেব আলীর ১ একর, মোফাজ্জল হোসেনের ৫০ শতাংশসহ এলাকার আরো অনেক প্রান্তিক কৃষকের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
    
নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, আমরা গরীর মানুষ। যে জমিতে আবাদ ফসল করে খাই সেই জমিই নদীতে চলে গেছে। বছর বছর নদী ভাঙছে, কিন্তু এ ভাঙন থেকে আমাদের রক্ষার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।

কৃষক সাহেব আলী জাগো নিউজকে বলেন, নদীর ভাঙনে ফসলি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। যেভাবে প্রতিবছর নদী ভাঙছে, তাতে এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তা নাহলে সামনে আরো বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা জঙ্গলদী কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ সার্ভিস প্রোভাইডার হাবিবুল্লাহ জাগো নিউজকে জানান, মৃগী নদীর এবারের ভাঙনে জঙ্গলদী গ্রামে প্রায় ৫০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগেও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে এই এলাকার প্রায় একশ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন নদী ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
    
এদিকে, জঙ্গলদীতে মৃগী নদীর ভাঙনে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হলেও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপারে কিছুই জানে না। শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ফরহাদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, বিষয়টি আমরা আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো।

হাকিম বাবুল/এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।