কোল্ড স্টোরেজে পড়ে আছে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন আলু
চলতি বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে আলুর খেত নষ্ট হয়েছে। এবার উৎপাদিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। দাম না পাওয়ায় কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু নিচ্ছেন না তারা। যার কারণে চাঁদপুর জেলার ১১টি কোল্ড স্টোরেজে কৃষকদের লাখ লাখ বস্তা আলু পড়ে আছে। আর ২০ দিনের মধ্যে এসব আলু কৃষকরা না নিলে এগুলো পচে যাবে বলে জানিয়েছে কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ।
কোল্ড স্টোরেজ সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত কৃষকরা তাদের মজুদকৃত আলুর মধ্যে খাওয়ার জন্য নিয়েছেন ৪৫ শতাংশ। বাকী ৫৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন আলু কোল্ড স্টোরেজগুলোতে পড়ে আছে। যা ৬ লাখ ৮০ হাজার বস্তায় রয়েছে।
এদিকে আলুর দাম না পাওয়ায় পাইকারি ব্যবসায়ীরাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আলু কৃষকদের কাছ থেকে কিনে কোল্ড স্টোরেজে রেখেছিলেন।
চাঁদপুর মনোহরখাদি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক রুহুল আমিন সিদ্দিকী জাগো নিউজকে জানান, চাঁদপুর জেলায় ১১টি কোল্ড স্টোরেজে প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন লু মজুদ করেছেন কৃষকরা। যা ২ মেট্রিক টন করে ৬ লাখ ৮০ হাজার বস্তায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ৪৫ শতাংশ আলু কৃষকরা সংগ্রহ করেছেন।
তিনি জানান, আগামী ২০ দিনের মধ্যে এসব আলু কৃষকরা সংগ্রহ না করলে সব পচে যাবে। এতে কৃষকরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মতলব দক্ষিণ মার্শাল অ্যান্ড মমতা কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার আনোয়ার পাটওয়ারী জাগো নিউজকে জানান, আলুর দাম না থাকায় তাদের কোল্ড স্টোরেজও ৫৫ শতাংশ আলু পড়ে আছে।
পাইকারী ব্যবসায়ী হোসেন আহমেদ জানান, ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ সিসি ঋণ নিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে আলু ক্রয় করে কোল্ড স্টোরেজ রেখেছেন। কিন্তু বর্তমানে আলুর দাম না থাকায় তার ১২ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এবার বৃষ্টিপাতে আলুর প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পর যে আলু হয়েছে তা কোল্ড স্টোরেজে রেখে দাম না পেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
ইকরাম চৌধুরী/আরএআর/পিআর