জিম্মি করে মুক্তিপণ, চিনে ফেলায় ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ১২:২২ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

কুমিল্লায় বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মজুমদারকে হত্যার আগে ৫ টন রডের অর্ডার দেয়ার কথা বলে কৌশলে মোবাইল ফোনে ভাড়াটে বাসায় ডেকে এনেছিল ঘাতকরা।

ঘাতকদের পরিকল্পনা ছিল আবুল খায়ের গ্রুপ কিংবা স্বজনদের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ আদায় করা। কিন্তু মাসুদ অপহরণকারীদের চিনে ফেলায় এবং মুক্তিপণের জন্য কোম্পানি কিংবা স্বজনদের ফোন না করায় তাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতা মাইনুল হাসান মান্না ও তার সহযোগী জসিম উদ্দিন পরিকল্পিতভাবে মাসুদকে হত্যা করেছে বলে শনিবার মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে ও পরে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ।

জানা গেছে, কুমিল্লা নগরীর নতুন চৌধুরী পাড়ার সুমন ভিলা নামের বাসার তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে আবুল খায়ের গ্রুপের কুমিল্লা অঞ্চলের মার্কেটিং ইন্সপেক্টর ও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সুবর্ণপুর গ্রামের শামছুল হক মজুমদারের ছেলে মাসুদুর রহমান মজুমদারকে গত ১৯ নভেম্বর রাতে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

হত্যার আগে ঘাতকরা ৫ টন রডের অর্ডার দেয়ার কথা বলে মাসুদকে কৌশলে মোবাইল ফোনে ওই বাসায় ডেকে নেয়। এ সময় ঘাতকরা মাসুদের স্বজন কিংবা কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে।

কিন্তু মাসুদ অপহরণকারীদের মধ্যে এক সময়ের রড ব্যবসায়ী মাইনুল হাসান মান্নাকে চিনে ফেলায় এবং মুক্তিপণের জন্য কোম্পানি কিংবা স্বজনদের ফোন না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করে।

ওই হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআই মামলার তদন্তে নামে এবং মোবাইল ট্র্যাকিং করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শুক্রবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নগরীর কাপ্তান বাজার এলাকার জিয়া উদ্দিনের ছেলে মান্না ও কুমিল্লা সিটির ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং তার সহযোগী জেলার আদর্শ সদর উপজেলার মাঝিগাছা নন্দিরবাজার এলাকার তাহেরের ছেলে জসিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে।

এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ২টি ছুরি, রশি ও চেতনানাশক ইনজেকশন, খেলনা পিস্তল এবং জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অলুয়া গ্রাম থেকে নিহত মাসুদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পিবিআই।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মান্না ও জসিম হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ওই চক্রটি এর আগেও নগরীতে একই ধরনের প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মো. কামাল উদ্দিন/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :