নারায়ণগঞ্জ আদালতে বিএনপির ৫শ’ নেতাকর্মীর হাজিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:২৩ এএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৭

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানার দায়েরকৃত নাশকতা, সহিংসতা, দ্রুত বিচার, পুলিশের কাজে বাধা দেয়া ও বিস্ফোরক মামলায় বিএনপির প্রায় ৫শ’ নেতাকর্মী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আদালতে বিভিন্ন মামলায় হাজিরা দেন বিএনপি নেতারা।

আড়াইহাজারে পুলিশের কাজে বাধা দেয়া ও হামলার মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে স্থায়ী জামিন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, আড়াইহাজার থানা যুবদলের সভাপতি জুয়েল ও ছাত্র সোহাগ।

আইনজীবী কামাল ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন। মামলার আরও ৭৭ জন উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন। ৮৭ জন আসামির আরও ৬ জন এখনও আত্মসমর্পণ করেননি।

রূপগঞ্জের গাউসিয়ায় গাড়ি পোড়ানো ও বাস ভাঙচুরের আরেক মামলায় বিশেষ ট্রাইবুনালে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সালাহউদ্দিন দেওয়ানসহ ৩৪ জন বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মী। এরা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দিপু ভূঁইয়ার অনুসারী।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি নাশকতার মামলায় চার্জ গঠনের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ থাকায় আদালতে হাজিরা দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ ৪৮ জন। পরে আদালত চার্জ গঠনের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

রূপগঞ্জের একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরসহ ১৯৪ জন বিএনপি নেতাকর্মী। ওই মামলা কাজী মনির ও তার ভাই আহাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদেরকে ওই মামলায় জামিন প্রদান করেন। রূপগঞ্জ থানার আরেকটি মামলায় আদালতে হাজিরা দেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরসহ ১৯৩ জন বিএনপি নেতাকর্মী।

narayangonj

হেফাজতে ইসলামের আরেকটি মামলাসহ মোট ৪টি মামলায় আদালতে হাজিরা দেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রানা মুজিব, মহানগর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজলসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে সদর থানার দ্রুত বিচার আইনের মামলা ও রুপগঞ্জ থানার বিস্ফোরক মামলাও রয়েছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, বিভিন্ন মামলায় কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শত শত নেতাকর্মী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এ ধরনের মামলা বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করার জন্যই করা হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়ায় এসব মামলা পরিচালনা করছি।

মামলার হাজিরা শেষে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। কারণ মানুষ এখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা। তাই সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলায় আদালতে ব্যস্ত রাখতেই মিথ্যা মামলায় আমাদের দিনের পর দিন আদালতে দাঁড় করিয়ে রাখে।

মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :